সোমবার

৩১ আগস্ট, ২০২৬ ১৬ ভাদ্র, ১৪৩৩

লাখ টাকায় সন্তান বিক্রি, আইফোন কেনার অভিযোগে বাবা আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩১ আগস্ট, ২০২৬ ১১:১৬

শেয়ার

লাখ টাকায় সন্তান বিক্রি, আইফোন কেনার অভিযোগে বাবা আটক
ছবি সংগৃহীত

পটুয়াখালীর দশমিনায় ১৮ মাস বয়সী সন্তানকে এক লাখ টাকায় বিক্রি করে নতুন মডেলের আইফোন কেনার অভিযোগে শিশুটির বাবা মারুফ মুন্সিকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটিকে দত্তক নেওয়া ইমরান হোসেনকেও আটক করা হয়েছে।

পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে দশমিনা থানার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নিজেদের পরিচর্যায় রেখেছে। একই সঙ্গে শিশু বিক্রির একটি লিখিত চুক্তিপত্রও আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে।

রবিবার (৩০ আগস্ট) রাতে দশমিনা থানা পুলিশের অভিযানে উপজেলার বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের বড় গোপালদী গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে অভিযুক্ত বাবা মারুফ মুন্সিকে আটক করা হয়। পরে শিশুটিকে দত্তক নেওয়া ইমরান হোসেনকেও আটক করে পুলিশ।

পুলিশের তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গলাচিপা উপজেলার চর কাজল এলাকা থেকে ১৮ মাস বয়সী শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, এক্সচেঞ্জ অফারে নতুন মডেলের আইফোন কিনেছেন মারুফ মুন্সি। এজন্য তার পুরোনো আইফোনের সঙ্গে শিশুটিকে বিক্রি করে পাওয়া এক লাখ টাকা নগদ পরিশোধ করা হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটিকে তার দাদী লালন-পালন করতেন। পারিবারিক কারণে শিশুটির বাবা মারুফ ঢাকায় থাকতেন এবং তার স্ত্রী থাকতেন সাভারে বাবার বাড়িতে। প্রায় চার বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের পর তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

শনিবার বাড়িতে এসে নিজের শিশুসন্তানকে নিয়ে বাজারে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হন মারুফ। পরে দত্তক নেওয়া ইমরান হোসেনের সঙ্গে এক লাখ টাকার বিনিময়ে লিখিত চুক্তির মাধ্যমে শিশুটিকে হস্তান্তর করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এরপর ওই টাকা নিয়ে রাজধানীতে গিয়ে নতুন মডেলের আইফোন কেনেন তিনি।

দশমিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, ঢাকায় ইমরান হোসেনের সঙ্গে মারুফ মুন্সি রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরেই ইমরানের কাছে শিশুটিকে বিক্রি করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে পুলিশ।

তিনি আরও জানান, শিশুটিকে বিক্রির বিষয়টি মারুফ তার স্ত্রী কিংবা শিশুটির দাদীকে জানাননি। উদ্ধার হওয়া শিশুটিকে পরবর্তীতে তার দাদীর কাছে হস্তান্তর করা হবে।

ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।