রবিবার

৩০ আগস্ট, ২০২৬ ১৫ ভাদ্র, ১৪৩৩

অনলাইন জুয়ার ছোবলে বাড়ছে আত্মহত্যা

শরিফুল ইসলাম বাংলা এডিশন

প্রকাশিত: ৩০ আগস্ট, ২০২৬ ১০:১৪

শেয়ার

অনলাইন জুয়ার ছোবলে বাড়ছে আত্মহত্যা
ছবি এআই মাধ্যমে তৈরি

মুঠোফোনের একটি ক্লিক আর সেই ক্লিকই কেড়ে নিচ্ছে স্বপ্ন, পরিবার, এমনকি জীবনও। ঠাকুরগাঁওয়ে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে অনলাইন জুয়ার আসক্তি। টাকা হারিয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন অনেকে, ভেঙে যাচ্ছে সংসার, আর উপায় না পেয়ে কেউ কেউ বেছে নিচ্ছেন আত্মহত্যার পথও।

দুই মাস আগেও যে সন্তান ঘরে ফিরত, সে এখন শুয়ে আছে কবরের নিস্তব্ধতায়। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার পশ্চিম বেগুনবাড়ি ভূজারীপাড়া গ্রামের নাজিরের একমাত্র ছেলে নাহিদ রানা। বয়স মাত্র ২০ বছর। দীর্ঘদিন অনলাইন জুয়ার নেশায় জড়িয়ে পড়ে বারবার টাকা হারান তিনি। শেষ পর্যন্ত হতাশা আর ঋণের চাপ সইতে না পেরে গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যা করেন।

ছেলের কবরের পাশে মায়ের আহাজারি

এখন প্রায় প্রতিদিনই ছেলের কবরের পাশে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা নাচ বেগম। নাহিদের মা চান আর এভাবে কোনো মা-বাবার কোল খালি না হয়, সেজন্য অনলাইন জুয়া বন্ধের দাবি জানান তিনি।

এক বছরের শিশু সন্তান আর স্ত্রীকে রেখে চলে গেছেন নাহিদ। স্বজনদের দাবি, অনলাইন জুয়ার নেশাই তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে। একটি সুখের সংসার মুহূর্তেই হয়ে গেছে অসহায়।

চলতি বছরেই একাধিক আত্মহত্যার ঘটনা

শুধু নাহিদ নন, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এই পর্যন্ত ঠাকুরগাঁওয়ে অনলাইন জুয়ার টাকা হারিয়ে আত্মহত্যার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। সদর উপজেলার হরিহরপুর নয়াপাড়ার মনির হোসেন, পৌর শহরের পূর্ব হাজীপাড়ার সাদেকুল ইসলাম এবং বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার রাজিউর রহমান রাজু প্রত্যেকেই অনলাইন জুয়ার ভয়াবহ পরিণতির শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

অনলাইন জুয়ার বিস্তার এখন শহর পেরিয়ে পৌঁছে গেছে গ্রাম-গঞ্জেও। সহজে টাকা জেতার প্রলোভনে তরুণরা জড়িয়ে পড়ছে ভয়ংকর এই নেশায়।

এই পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা। দ্রুত অনলাইন জুয়া বন্ধের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা।

পুলিশের অভিযান ও সচেতনতার ওপর গুরুত্ব

জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁও জেলায় চলতি বছরে অনলাইন জুয়া আইনে ২টি মামলা হয়েছে। এতে গ্রেপ্তার হয়েছেন ৩ জন। এছাড়া সাধারণ জুয়ার ৭টি মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ১৫ জন।

অনলাইন জুয়ায় প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান চালানোর পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতাও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে পুলিশ। প্রশাসনের পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতন হওয়া এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনদের এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর অনুরোধ জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোদাদাদ হোসেন বাংলা এডিশনকে জানান, একটি মোবাইল ফোন, একটি অনলাইন গেম, আর সহজে টাকা জেতার প্রলোভন। এই তিনের ফাঁদে পড়ে হারিয়ে যাচ্ছে সম্ভাবনাময় তরুণদের জীবন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সম্মিলিত সচেতনতাই পারে এই ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে।