রবিবার

৩০ আগস্ট, ২০২৬ ১৫ ভাদ্র, ১৪৩৩

মধ্যরাতে স্টেশনে শিশু, আশ্রয় দিতে প্রশাসনের গড়িমাশি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩০ আগস্ট, ২০২৬ ০৮:৪৭

শেয়ার

মধ্যরাতে স্টেশনে শিশু, আশ্রয় দিতে প্রশাসনের গড়িমাশি
ছবি: বাংলা এডিশন

নীলফামারীর ডোমার রেলওয়ে স্টেশনে গভীর রাতে মার্জান (৮) নামের এক শিশুকে পাওয়া গেলেও তাকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিতে প্রশাসনের গড়িমাশি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। দায়িত্ব কোন প্রতিষ্ঠানের, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে দায় এড়ানোর প্রবণতা দেখা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার রাত প্রায় ১১টার দিকে ডোমার রেলওয়ে স্টেশনে শিশুটিকে একা ঘোরাফেরা করতে দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে তারা শিশুটির সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, তার নাম মার্জান। তার বাবার নাম শফিকুল ইসলাম এবং মায়ের নাম মর্জিনা। শিশুটি জানায়, তার বাড়ি রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ওকড়াবাড়ি মাটিয়ালপাড়া এলাকায়। রাত ১১ টা থেকে রাত সোয়া ১টা পর্যন্ত বাচ্চাটিকে স্থানীয়রা ধরে থাকলেও প্রশাসনের কোনো খবর মেলেনি।

স্থানীয়দের ধারণা, রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা বরেন্দ্র এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে শিশুটি ডোমার স্টেশনে নেমে পড়ে অথবা কোনোভাবে ট্রেনে করে এখানে এসে পৌঁছেছে।

খবর পেয়ে শিশুটিকে দেখতে স্টেশনে স্থানীয়দের ভিড় জমে। তবে রাত বাড়লেও তাকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেয়ার বিষয়ে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেন উপস্থিত লোকজন।

স্থানীয় যুবক সজিব ও নুর আলম জানান, শিশুটিকে পাওয়ার পর তারা জরুরী সেবা ৯৯৯ সহ ডোমার থানা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেন। তবে দায়িত্ব নেয়ার বিষয়ে কেউ আগ্রহ দেখাননি। তাদের ভাষ্য, পুলিশকে বিষয়টি জানালে তারা সমাজসেবা অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। আবার সমাজসেবার নম্বরে কল দিলে তিনি রিসিভ করেনি।

ডোমার রেলওয়ে স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টেশন মাস্টার বাবু হোসেন বলেন, “আমরা চাইলে শিশুটিকে স্টেশনে রাখতে পারি না। এটি আমাদের দায়িত্বের আওতায় পড়ে না। বিষয়টি রেলওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের। তবে গভীর রাতে রেলওয়ে পুলিশের কাছে শিশুটিকে পৌঁছে দেয়াও কঠিন।”

এ বিষয়ে ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুল্লাহ বলেন, এ ধরনের বিষয় সমাজসেবা বিভাগের অধীনে পড়ে।তবে শিশুটির দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়ে তিনি অনাগ্রহ প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে, ডোমার উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। খুদে বার্তা পাঠিয়েও তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।