রোগীদের প্রাণ বাঁচানোর কথা ছিল যেসব সরকারি ওষুধের, দিনের পর দিন স্টোররুমে ফেলে রেখে সেসব বানানো হয়েছে আবর্জনা। মেয়াদ ফুরোলে রাতের অন্ধকারে সেই আবর্জনা ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় যমুনার বুকে। কিন্তু মাঝপথে জনতার হাতে ধরা পড়ে যায় পিকআপ ভর্তি ৫০ বস্তা ওষুধ।
মধ্যরাতে পিকআপ ভর্তি ওষুধ জব্দ
বুধবার (২৬ আগস্ট) দিবাগত মধ্যরাত। চারদিক যখন নিস্তব্ধ, ঠিক তখনই ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বেরিয়ে আসে একটি পিকআপ। গন্তব্য ভূঞাপুরের গোবিন্দাসী এলাকার টি-রোড সংলগ্ন যমুনা নদী। কিন্তু স্থানীয়দের বাধায় ভেস্তে যায় সব পরিকল্পনা। তল্লাশিতে বেরিয়ে আসে মেয়াদোত্তীর্ণ ইনজেকশনসহ নামি-দামি সব সরকারি ওষুধের পাহাড়।
খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে হাজির হয় পুলিশ। জব্দ করা হয় পিকআপ, আটক হয় চালক আজমত। তবে অন্ধকারের সুযোগে সটকে পড়ে চক্রের অন্য সদস্যরা।
চালকের বক্তব্য ও বিক্ষোভ
আটক পিকআপ চালক আজমত আলী বাংলা এডিশনকে জানান, হাসপাতালের কর্মচারী বাবলু তাকে ভাড়া করলেও বস্তার ভেতরের রহস্য তার অজানা।
দিনের আলো ফুটতেই হরিলুটের এই খবরে ফুঁসে ওঠে সাধারণ মানুষ। ঘাটাইল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণ রূপ নেয় বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে। পিকআপ চালককে আটকের জেরে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে তারা।
বিক্ষোভকারীদের একটাই ক্ষোভ, যে হাসপাতালে গেলে মেলে না প্রয়োজনীয় ন্যূনতম ওষুধ, সেখানে কীভাবে এত ওষুধ মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে নদীতে যায়।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও পুলিশের পদক্ষেপ
তোপের মুখে অবশেষে নিজেদের গাফিলতির দায় স্বীকার করে নেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ঘাটাইলের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু নয়িম বাংলা এডিশনকে বলেন, জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির আশ্বাস মেলে।
ভূঞাপুর থানার ওসি রেজাউল করিম বাংলা এডিশনকে জানান, ঊর্ধ্বতন মহলে পুরো বিষয়টি জানানো হয়েছে, চলছে আইনি প্রক্রিয়া।
এরই মধ্যে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছে খোদ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। যেখানে আটক পিকআপ চালক আজমতকে এক নম্বর এবং অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
তবে প্রশ্ন থেকেই যায়, হাসপাতালের কড়া পাহারা এড়িয়ে এত বিপুল পরিমাণ ওষুধ কাদের ইশারায় বাইরে গেল। কেবল চালকের ওপর দায় চাপিয়ে নেপথ্যের মূল কারিগররা কি এবারও ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাবে, প্রশাসনের কঠোর জবাবের অপেক্ষায় গোটা জেলা।
আরও পড়ুন:







