সাভারে বিভিন্ন এলাকায় মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এর মধ্যে বেদেপাড়া এলাকায় প্রকাশ্যে ও গোপনে মাদক বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দিনের বিভিন্ন সময় এবং বিশেষ করে সন্ধ্যার পর এলাকার কয়েকটি স্থানে মাদকসেবী ও বিক্রেতাদের আনাগোনা বেড়ে যায়। এতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন সাধারণ মানুষ। এলাকাবাসীর দাবি, মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত ও সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে মাদককে কেন্দ্র করে এলাকায় একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। বিভিন্ন বয়সী তরুণ ও যুবকদের মাদকের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মাদক কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে মাঝেমধ্যে ঝগড়া-বিবাদ, চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধের ঘটনাও ঘটছে বলে দাবি এলাকাবাসীর। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যাচাই প্রয়োজন।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, সন্ধ্যার পর কিছু জায়গায় অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা বাড়ে। তরুণদের অনেককে মাদক গ্রহণ করতে দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে আমরা আতঙ্কে থাকি। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, নিয়মিত অভিযান চালিয়ে মাদক বিক্রি বন্ধ করা হোক।
আরেক ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যের অভিযোগ, মাদকের কারণে তাদের পরিবারের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হচ্ছে। তিনি বলেন, মাদক একজন মানুষকে শুধু নষ্ট করে না, পুরো পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়। আমাদের এলাকায় যারা তরুণ, তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা চিন্তিত। মাদক বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালিত হলেও স্থায়ীভাবে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। অভিযানের পর কিছুদিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠে মাদক কারবারিরা। এ কারণে শুধু অভিযান নয়, মাদক বিক্রির উৎস, সরবরাহকারী ও পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
অন্যদিকে, মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ ওঠা একজন ব্যক্তি পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, এলাকায় মাদক কেনাবেচা হয়—এটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে শুধু ছোট বিক্রেতাদের ধরলে সমস্যার সমাধান হবে না। যারা বড়ভাবে মাদক সরবরাহ করে, তাদের আগে শনাক্ত করতে হবে। তার এই বক্তব্যও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদকের সহজলভ্যতা তরুণ প্রজন্মের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে উঠছে। স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী ও বেকার যুবকদের একটি অংশ মাদকের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। স্থানীয় অভিভাবকদের দাবি, মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে একযোগে কাজ করতে হবে।
একজন অভিভাবক বলেন, শুধু পুলিশি অভিযান দিয়ে মাদক পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে পরিবারকে সচেতন হতে হবে, সন্তানদের চলাফেরা ও বন্ধুমহল সম্পর্কে খোঁজ রাখতে হবে। এলাকায় খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানো দরকার।
সচেতন নাগরিকদের মতে, মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রথমে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে। পাশাপাশি মাদক বিক্রেতা ও সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান, গ্রেপ্তার এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের উদ্যোগও জরুরি। কারণ একজন মাদকাসক্তকে শুধু অপরাধী হিসেবে দেখলে সমস্যার সামাজিক দিকটি উপেক্ষিত থেকে যায়।
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য নেওয়া হলে তারা মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, বেদেপাড়াসহ সাভারের মাদকপ্রবণ এলাকাগুলোতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে মাদকের মূল হোতাদের শনাক্ত করা হবে। পাশাপাশি মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাদের মতে, মাদকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে তরুণ প্রজন্মকে অপরাধের পথ থেকে দূরে রাখা এবং এলাকার সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন সম্ভব।
আরও পড়ুন:







