ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে মো. আলমগীর হোসেন নামে নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের এক পদধারী নেতাকে বিএনপির সমর্থক দাবি করে দলীয় প্যাডে প্রত্যয়নপত্র দিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন কালিকচ্ছ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফারুক হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মানিক মিয়া।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন আইডি থেকে বিতর্কিত সে-ই প্রত্যয়নপত্রটি ছড়িয়ে পড়লে জনমনে নিন্দার ঝড় ওঠে। ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় জাতীয়তাবাদী দলের বিভিন্ন নেতাকর্মী।
ভাইরাল সে-ই প্রত্যয়নপত্রে দেখা যায় চলতি মাসের (২২ আগস্ট) কালিকচ্ছ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফারুক হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মানিক মিয়া স্বাক্ষরিত সেই প্রত্যয়নপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে—‘মো. আলমগীর হোসেন, পিতা—মৃত ছাবর আলী, গ্রাম—চাকসার পূর্বপাড়া, ডাকঘর—কালিকচ্ছ, উপজেলা—সরাইল, জেলা—ব্রাহ্মণবাড়িয়া। আমরা তাহাকে ব্যক্তিগতভাবে চিনি ও জানি। সে জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর একজন সক্রিয় কর্মী এবং তাহার পিতা মৃত ছাবর আলী কালিকচ্ছ ইউনিয়ন বিএনপির একজন প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ছিলেন। আমরা তাহার সার্বিক মঙ্গল কামনা করি।’
অথচ বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনপির কর্মী দাবি করা সেই আলমগীর হোসেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের কালিকচ্ছ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড শাখার কার্যনির্বাহী সদস্য এবং বর্তমান কালিকচ্ছ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের পদধারী নেতা। এ-সংক্রান্ত কমিটির কাগজপত্র ও আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে তাঁর কিছু ছবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
এদিকে বিষয়টি জনসম্মুখে আসার পর এ নিয়ে ব্যাপক মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের একাধিক নেতা দাবি করেছেন, কত টাকা কিংবা কিসের বিনিময়ে এই প্রত্যয়ন প্রদান করা হয়েছে, সেটি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তবে বিতর্কের পর প্রত্যয়ন প্রদানের বিষয়টি নিজের ফেসবুক পোস্টে স্বীকার করেছেন কালিকচ্ছ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফারুক হোসেন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেন, প্রত্যয়নপত্রে স্বাক্ষর করার সময় বিষয়টি আমার সম্পূর্ণরূপে বোধগম্য ছিল না এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আলমগীর হোসেন যে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন, সেটিও আমার জানা ছিল না। পরবর্তীতে বিষয়টি অবগত হওয়ার পর আমি উক্ত প্রত্যয়নপত্রে স্বাক্ষর করার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। একই সঙ্গে ২২/০৮/২০২৬ ইং তারিখে উক্ত প্রত্যয়নপত্রটি আমি প্রত্যাহার করছি।
আরও পড়ুন:







