বুধবার

২৬ আগস্ট, ২০২৬ ১১ ভাদ্র, ১৪৩৩

নওগাঁর মান্দায় বয়ঃসন্ধিকালীন প্রশিক্ষণের তিন লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ইউএনওর বিরুদ্ধে

শহিদুল ইসলাম, রাজশাহী ব্যুরো প্রধান

প্রকাশিত: ২৬ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:২৭

শেয়ার

নওগাঁর মান্দায় বয়ঃসন্ধিকালীন প্রশিক্ষণের তিন লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ইউএনওর বিরুদ্ধে
ছবি: সংগৃহীত

নওগাঁ মান্দা উপজেলায় মেয়ে শিক্ষার্থীদের বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ক প্রশিক্ষণের নামে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বিশেষ বরাদ্দের প্রায় ৩ লাখ টাকা অনিয়মের মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথীর বিরুদ্ধে।

অভিযোগ রয়েছে, গত ১৫ জুন উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৬৪ জন মেয়ে শিক্ষার্থীকে নিয়ে দুই দিনব্যাপী বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ক প্রশিক্ষণের আয়োজন দেখানো হলেও বাস্তবে মাত্র একদিন প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৩৫ থেকে ৪০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন বলে।

বয়ঃসন্ধিকালীন প্রশিক্ষণ দুইদিন ব্যাপী হওয়ার কথা থাকলেও তা একদিনেই শেষ করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মান্দা উপজেলায় মেয়ে শিক্ষার্থীদের বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ক প্রশিক্ষণের জন্য এডিপির বিশেষ বরাদ্দ থেকে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয় ২ লাখ ৯৮ হাজার ২৭৮ টাকা।

প্রকল্পের বরাদ্দ অনুযায়ী, দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য প্রতিদিন ১ হাজার ৫০০ টাকা করে মোট ৩ হাজার টাকা এবং প্রত্যেক প্রশিক্ষকের জন্য প্রতিদিন ৩ হাজার টাকা করে দুই দিনে ৬ হাজার টাকা ভাতা দেয়ার কথা ছিল।

তথ্যনুসন্ধানে জানাগেছে, ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে প্রশিক্ষণের নামে এডিপির বিশেষ বরাদ্দের প্রায় পুরো টাকা পকেস্থ করেছেন ইউএনও। কাগজ কলমে ২দিন প্রশিক্ষণ দেখানো হলেও মাত্র ১দিনের দায়সারা ভাবে প্রশিক্ষণ করিয়েছেন তিনি। ৪ জন প্রশিক্ষকের জন্য ২৪ হাজার টাকা বরাদ্দ দেখানো হলেও তারা পেয়েছেন মাত্র ৩ হাজার করে মোট ১২ হাজার টাকা।

নির্ভরযোগ্য তথ্যনুযায়ী আরো জানা গেছে, প্রশিক্ষণে ৪জন প্রশিক্ষক এবং ৬৪ জন মেয়ে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি দেখানো হয়েছে। অথচ প্রশিক্ষণে অংশ গ্রহণ করেছেন মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ জন শিক্ষার্থী।

৬৪জন শিক্ষার্থী প্রতিদিন ১হাজার ৫শত টাকা করে প্রশিক্ষণ ভাতা পাওয়ার কথা থাকলেও তারা কোন ভাতা পাননি। ভাতার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের শুধু খাবার ও ১টি স্যানিটারি প্যাড দেয়া হয়েছে। এছাড়া ভূয়া স্বাক্ষরে বয়ঃসন্ধিকালীন শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ ভাতা তুলে নিয়েছেন। যা শিক্ষার্থীরা জানেন না।

এ ব্যাপারে মান্দা থানা আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়ের ব্যবস্থা ও শিক্ষা বিষয়ক শিক্ষিকা পারভীন বেগম জানান, আমার প্রতিষ্ঠানের ৩ জন মেয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে বয়ঃসন্ধিকালীন প্রশিক্ষণে অংশ নেন। সেখানে শিক্ষার্থীদের ১টি করে প্যাড দেয়া হয়েছিল। ভাতার বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষিকা খালেনুর বেগম ফোনে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে মোবাইল বন্ধ করে দেন।

উপজেলার প্রসাদপুর ইউনিয়নের বিদ্যা মাধুরী বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকা ভারতী রাণী জানান, ছাত্রীদের হাতে পানির বোতল ও খাবার দেখেছি। এছাড়া যাতায়াত ভাড়া হিসেবে ১ হাজার টাকা দিয়েছিলো। শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ ভাতার বিষয়ে আমার জানা নেই।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও প্রশিক্ষক ডাঃ জয়নাল আবেদিন জানান, গত জুন মাসের ১৫ তারিখে মেয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে ১দিনব্যাপী বয়ঃসন্ধিকালীন প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রশিক্ষণ ভাতা হিসাবে আমি ৩ হাজার টাকা পেয়েছি। ২দিনের প্রশিক্ষণ হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, একদিন প্রশিক্ষণ করিয়েছি ১দিনের ভাতা পেয়েছি।

প্রকল্পের সভাপতি ইউপি সদস্য মোঃ শরীফ উদ্দিন বলেন, প্রশিক্ষণের বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। ইউএনও অফিস থেকে আমাকে ডেকে শুধু সাক্ষর নেয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণে কতজন শিক্ষার্থী অংশ নেন এই বিষয়ে আমাকে জানানো হয়নি।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী বলেন মান্দা উপজেলার সকল বালিকা বিদ্যালয় থেকে ৫ জন করে শিক্ষার্থী এখানে অংশগ্রহণ করেছেন। প্রকল্পটি সঠিকভাবে ঠিকমত হয়েছে এর বাহিরে আমার কোনো বক্তব্য নাই।