বুধবার

২৬ আগস্ট, ২০২৬ ১১ ভাদ্র, ১৪৩৩

ভবন নির্মাণ শেষ, তবুও মূল ভবনে ফিরতে পারছে না কাঁচিঝুলি স্কুলের শিক্ষার্থীর

শফিক সরকার,ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৬ আগস্ট, ২০২৬ ১৭:৪৮

শেয়ার

ভবন নির্মাণ শেষ, তবুও মূল ভবনে ফিরতে পারছে না কাঁচিঝুলি স্কুলের শিক্ষার্থীর
ছবি: বাংলা এডিশন

ভবন নির্মাণের কাজ শেষ হলেও টয়লেট ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা না থাকায় ময়মনসিংহ নগরীর কাঁচিঝুলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এখনো ফিরতে পারছে না নতুন ভবনে। ফলে প্রায় আড়াই বছর ধরে প্রায় এক কিলোমিটার দূরের গোলকিবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলছে বিদ্যালয়টির পাঠদান। এতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমার পাশাপাশি দিন দিন কমছে শিক্ষার্থী সংখ্যা। দ্রুত সমস্যা সমাধান করে মূল ভবনে পাঠদান শুরুর দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনসহ সদর উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১৮৫টি। এর মধ্যে ১১৪ নম্বর কাঁচিঝুলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৫৯ সালে হামিদউদ্দিন রোড এলাকায়। পুরোনো ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি-৪-এর আওতায় নতুন ভবন নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়।

২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ভবন নির্মাণের দায়িত্ব পায় এমএমআর এমএসজেবি নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।। আর ব্যয় ধরা হয় ৯৭ লাখ। একই বছরের নভেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও দুই দফা সময় বাড়ানো হয়। এরপরও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে ভবনটি হস্তান্তর করা হয়নি। ভবন নির্মাণের কারণে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম স্থানান্তর করা হয় প্রায় এক কিলোমিটার দূরের গোলকিবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

কাঁচিঝুলি বিদ্যালয়ের ক্লাস শুরু হয় সকাল ৮টায়। আর গোলকিবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাস শুরু হয় দুপুর ১২টায়। দূরত্ব ও সময়ের ভিন্নতার কারণে অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে চায় না। ফলে কমে যাচ্ছে উপস্থিতি ও শিক্ষার্থী সংখ্যা।

অভিভাবকদের অভিযোগ, নতুন ভবন নির্মাণের পরও টয়লেট ও পানির ব্যবস্থা না থাকায় সেখানে পাঠদান শুরু করতে চাচ্ছেন না শিক্ষকরা। দ্রুত এসব সমস্যা সমাধানের দাবি জানান তারা। অভিভাবকরা অভিযোগ করে বলেন, এই স্কুলে আসতে প্রতিদিন তাদের ৬০ টাকা খরচ হয়। এছাড়া দূরে হওয়ায় তাদের সন্তানরা স্কুলে আসতেও চায় না।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. মোমেনা খাতুন বলেন, টয়লেট নেই,পানির ব্যবস্থা নেই, একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর সমাধান হয়নি।এতে দিনদিন শিক্ষার্থী কমছে। শিক্ষার্থীরা দূরে দেখে স্কুলে আসতে চায় না।

এদিকে ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী। তারা বলেন, ভবন নির্মাণের সময় পানি দেয়া হয়নি। কোনোমত দায়সারা কাজ করেছেন ঠিকাদার। শুধু রঙের কাজ করে ওপরে ভবনকে চকচকে করা হয়েছে। আর ভেতরে ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রোপ্রাইটর জহিরুল ইসলাম বলেন, নিয়ম মেনেই ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। পানির জন্য চৌবাচ্চা নির্মাণ করা হয়েছে। আর সেখান থেকেই পানি দেয়া হয়েছে। তিনি প্রধান শিক্ষককে দোষারোপ করে বলেন, পুরো কাজ করার সময় প্রধান শিক্ষক কোনো ধরনের খবর নেয়নি। মাঝে মাঝে তার আসা উচিত ছিল।

সদর উপজেলা প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলাম বলেন, আমি এই উপজেলায় যোগদানের পর কাঁচিঝুলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণের কাজ নজরে পড়ে। এর দ্রুত এর কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তাগিদ দেওয়া হয়। এখন ভবনের কাজ শেষ যেকোনো সময় স্কুল কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেয়া হবে।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম জানান, এক সপ্তাহের মধ্যে ভবনটি হস্তান্তরের পাশাপাশি টয়লেট ও পানির সমস্যাসহ অন্যান্য বিষয় সমাধানে কাজ চলছে। আশা করছি অল্প কিছুদিনের মধ্যে কাঁচিঝুলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মূল ভবনে পাঠদান শুরু করা যাবে।