লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা সীমান্তে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করে স্থানীয় নাগরিকদের সঙ্গে বিরোধে জড়ানোর পর দুটি শর্টগান ও একটি ওয়াকিটকি ফেলে ভারতের অভ্যন্তরে পালিয়ে গেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের তিন সদস্য। পরে বিজিবির কড়া প্রতিবাদের মুখে ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেছে ৭৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট। ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হওয়ার পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছে ভারতীয় পক্ষ।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীন বনচৌকি বিওপির শূন্য লাইনে গরু চরানোকে কেন্দ্র করে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। এ সময় ভারতের ৭৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের পাগলীমারী ক্যাম্পের তিন সদস্য স্থানীয় কয়েকজন বাংলাদেশির সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।
সীমান্তের নিয়মকানুন উপেক্ষা করে বিজিবিকে না জানিয়ে সশস্ত্র বিএসএফ সদস্যরা অবৈধভাবে বাংলাদেশের সীমানায় প্রবেশ করেন। পরে স্থানীয় নাগরিকদের ওপর চড়াও হয়ে তাদের মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় শত শত মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হন। একপর্যায়ে সীমান্তবাসীর ধাওয়ার মুখে বিএসএফ সদস্যরা দুটি শর্টগান ও একটি ওয়াকিটকি সেট ফেলে ভারতের অভ্যন্তরে পালিয়ে যান।
পরে বিজিবির টহলদল ঘটনাস্থলে গিয়ে অস্ত্র ও ওয়াকিটকি উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
বিজিবি-বিএসএফের পতাকা বৈঠক
ঘটনার পর ১৫ বিজিবির অধিনায়ক বিএসএফ ব্যাটালিয়ন কমান্ড্যান্টের কাছে লিখিত জবাবদিহিতা চেয়ে তাৎক্ষণিক কড়া বার্তা পাঠান। এর পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুত ৫০ মিনিটের জরুরি ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ের পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের সীমানায় অবৈধ অনুপ্রবেশ ও নাগরিকদের মারধরের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে কড়া বার্তা দেয় বিজিবি। বাংলাদেশের বাহিনীর এই কঠোর অবস্থানের মুখে ৭৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য অনুশোচনা ও দুঃখ প্রকাশ করেন।
ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটার অঙ্গীকারের পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেয় ভারতীয় পক্ষ। পরে উদ্ধার করা দুটি শর্টগান ও ওয়াকিটকি যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পঞ্চগড় ও মেহেরপুর সীমান্তেও প্রতিরোধ
সীমান্তে অন্যায়ের বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দাদের এমন প্রতিবাদের নজির পঞ্চগড় ও মেহেরপুর সীমান্তেও দেখা গেছে।
এর আগে পঞ্চগড় সদরের সাতেরা সীমান্তে ৭৮ বছর বয়সী বৃদ্ধ তমিজুদ্দিন গরু খুঁজতে গেলে তাকে বিএসএফ তুলে নিয়ে যায়। পরে ভারতীয় নাগরিক দীপঙ্কর গোপ কাঁটাতার পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢুকলে তাকে তাৎক্ষণিক আটকে ফেলে স্থানীয় জনতা।
মেহেরপুরের ইছাখালী সীমান্তে ৭০ বছর বয়সী কৃষক আব্দুল মান্নানকে বিএসএফ ধরে নিয়ে গেলে সীমান্তবাসীর মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এর জবাবে বাংলাদেশে অবস্থানরত দুই ভারতীয় নাগরিককে আটকে রাখে স্থানীয়রা। সীমান্তবাসীর এমন অবস্থানের মুখে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই পতাকা বৈঠক ডেকে আটক বাংলাদেশি বৃদ্ধকে ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হয় বিএসএফ।
গত ১৭ বছরের নতজানু পররাষ্ট্রনীতি ও সীমান্তে দুর্বল অবস্থানের সেই দিন এখন শুধুই অতীত—এমন অবস্থান তুলে ধরে বলা হয়েছে, চব্বিশের আগস্টের পর থেকে সীমান্তের সমীকরণ এখন পুরোপুরি পরিষ্কার, ইট মারলে মিলবে পাটকেল।
বিএসএফের যেকোনো পুশইন ও আগ্রাসনের অপচেষ্টা রুখতে বিজিবির সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাত জেগে সীমান্ত পাহারা দিচ্ছে জাগ্রত জনতা। এই সম্মিলিত প্রতিরোধ নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও নাগরিকদের নিরাপত্তায় নতুন বাংলাদেশ আর এক বিন্দুও ছাড় দেবে না—এমন বার্তা বিশ্বমঞ্চে দিচ্ছে।
আরও পড়ুন:







