পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ময়মনসিংহে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এর মধ্যে সকালে লালকুঠি দরবার শরীফ থেকে আনন্দ শোভাযাত্রা এবং দুপুরে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে নগরীর লালকুঠি দরবার শরীফ থেকে মোজাদ্দেদিয়া তরিকত মিশনের উদ্যোগে একটি আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশ নেন।
শোভাযাত্রাটি লালকুঠি দরবার শরীফ থেকে শুরু হয়ে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি দরুদ ও সালাম পেশ করেন। পরে শোভাযাত্রাটি নির্ধারিত স্থানে গিয়ে শেষ হয়।
এরপর দুপুরে নগরীর তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রশাসন, পুলিশসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার এসএম হুমায়ুন কবীর সরকার, ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি জাহিদুল হাসান, জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান ও পুলিশ সুপার কামরুল হাসানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রোকনুজ্জামান রুকন।
আলোচনা সভায় বক্তারা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন, কর্ম ও মানবতার জন্য তাঁর অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, মহানবী (সা.) ছিলেন সমগ্র মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। তাঁর শিক্ষা ও আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান সময়ে সামাজিক অস্থিরতা, হিংসা-বিদ্বেষ ও বিভাজন দূর করতে মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করা জরুরি। তাঁর দেখানো পথ অনুসরণ করে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, আলেম-ওলামা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে দেশ, জাতি ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন বৃহত্তর ইত্তেফাকুল উলামার অন্যতম আলেম মাওলানা আব্দুর রহমান হাফেজ্জী।
মোনাজাতে দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য এবং বিশ্বের নির্যাতিত মানুষের জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়।
আরও পড়ুন:







