বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সময় গুলি করে হত্যা চেষ্টার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার দুই আসামির কাছ থেকে ফুল গ্রহণ এবং তাদের সঙ্গে ছবি তোলার ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: আল এমরান খানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
গত মঙ্গলবার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মো: আল এমরান খান। দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
পরে শুভেচ্ছা বিনিময়ের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্ট মামলার তথ্য অনুযায়ী, ইউএনওকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো ব্যক্তিদের মধ্যে ফয়সাল আহমেদ খান ও মোল্লা নাসির উদ্দিন দুলাল রয়েছেন।
ফয়সাল আহমেদ খানকে স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে পরিচিত বলে দাবি করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকার পল্টন থানায় দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। মামলাটির নম্বর ০২/২০২৫। ওই মামলায় তাকে ১৬৬ নম্বর আসামি করা হয়েছে। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩/১০৯/১৪৯/৩০৭/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩২৬/৩৭৯/৫০৬/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া ফয়সাল আহমেদ খানের বিরুদ্ধে মাদক বহনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২০১২ সালের ২৫ মার্চ আখাউড়ায় ফেন্সিডিল ও ইয়াবার চালান সহ আটক হলে পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক বছরের সাজা দেয়া হয়।
অন্যদিকে, মোল্লা নাসির উদ্দিন দুলাল বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ফরদাবাদ ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক হিসেবে পরিচিত বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধেও ২০২৫ সালের ৬ জুলাই ঢাকার বিমানবন্দর থানায় দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলা রয়েছে। ওই মামলায় তাকে ৬৭ নম্বর আসামি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩/১৪৭/১৪৮/৩২৩/৩২৬/৩০৭/১০৯/৩৪ ধারার অভিযোগ উল্লেখ রয়েছে।
এ ছাড়া দুলালের বিরুদ্ধে ফরদাবাদ গ্রামের প্রতিবেশীর বসত ঘর অগ্নিসংযোগ করে পুড়িয়ে দেয়ার মামলাও ছিল। পরে বাদীকে বিগত আওয়ামী লীগের সময় চাপ দিয়ে তুলে নেয় মামলাটি।
ইউএনওকে ফুল দেয়ার ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, ফয়সাল আহমেদ খান ও মোল্লা নাসির উদ্দিন দুলাল নবাগত ইউএনও মো. আল ইমরান খানকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।
এসময় তাদের সঙ্গে ছলিমাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন, ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সেলিম মিয়াসহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরবর্তী সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে এই চক্রটি নিজেদের প্রভাবশালী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, মোল্লা নাসির উদ্দিন দুলাল ও ফয়সাল আহমেদ খান নিয়মিত বাঞ্ছারামপুর থানায় যাতায়াত করেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে তদবির করেন।
স্থানীয় সুশীল সমাজ অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত বিতর্কিত আসামীদের সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তার প্রকাশ্য ছবি জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলার আসামিদের কাছ থেকে নতুন ইউএনওর ফুল নেয়া এবং তাদের সঙ্গে ছবি তোলার বিষয়টি সাধারণ মানুষ ভালোভাবে নেয়নি। এতে স্থানীয় প্রশাসনের ভাবমূর্তি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল ইমরান খান বলেন, “আমি এখানে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছি মাত্র। কে কোন মামলার আসামি বা কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ রয়েছে, সে বিষয়ে আমার জানা ছিল না। অনেকেই শুভেচ্ছা জানাতে এসেছিলেন। সাধারণ নিয়মেই তাদের কাছ থেকে ফুল গ্রহণ করা হয়েছে।”তিনি আরও বলেন, “সরকারি দায়িত্ব পালনে আমি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ। কোনো জুলাই মামলার আসামিকে সমর্থন বা সুবিধা দেয়ার প্রশ্নই ওঠে না।”
আরও পড়ুন:







