চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে লবণ মাঠ ও মাছের ঘেরের দখলকে কেন্দ্র করে জিল্লুর রহমান হত্যা মামলার এজাহারনামীয় চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৭। মঙ্গলবার রাত সোয়া ৩টার দিকে ফেনী সদর উপজেলার মধ্যরামপুর এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন– বাঁশখালীর সরল ইউনিয়নের বাসিন্দা আজগর হোসেনের পুত্র দিদার, আবু তাহেরের পুত্র আহমদ উল্লাহ, আবদুল মজিদের পুত্র শহিদ, দেলোয়ারের পুত্র শহিদুল ইসলাম কালু। র্যাবের বরাতে জানা যায়, তাঁরা জিল্লুর রহমান হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি এবং ঘটনার পর থেকে পলাতক ছিলেন।
র্যাব-৭-এর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহত জিল্লুর রহমান বাঁশখালী উপজেলার সরল ইউনিয়নের সরল গ্রামের আবদুল আলীমের ছেলে। কয়েক মাস ধরে তিনি সরলের তাজুর ঘোনা এলাকায় একটি লবণ ও মৎস্য সমিতির অধীনে মাসিক বেতনে পাহারাদারের কাজ করছিলেন।
মামলার এজাহার ও র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি খাসজমিতে গড়ে ওঠা মাছের প্রজেক্ট-লবণ মাঠ দখল ও ভাগাভাগি নিয়ে স্থানীয় মনছুর গ্রুপ ও কবির গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। গত ৩০ জুলাই রাত ১১টা থেকে পরদিন রাত ২টার মধ্যে একদল ব্যক্তি তাজুর ঘোনা দখলের উদ্দেশ্যে সেখানে যায়। এ সময় পাহারায় থাকা জিল্লুর রহমানকে ঘোনা থেকে চলে যেতে হুমকি দেয়া হয়।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, জিল্লুর রহমান টর্চের আলো দিয়ে সেখানে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা করলে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এতে তাঁর বুকে তিনটি গুলির আঘাত লাগে। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় স্বজনেরা তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে ৩১ জুলাই ভোর পাঁচটার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে গত ২ আগস্ট বাঁশখালী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ৪০ জনকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া ২০ থেকে ৩০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।
র্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে জিল্লুর রহমান হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত চার পলাতক আসামিকে ফেনী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ফেনী থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:







