কুমিল্লায় মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান চললেও এখনো অধরা রয়ে গেছে শীর্ষ মাদক কারবারি ও গডফাদাররা। র্যাব-পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে গ্রেফতার হচ্ছেন সেবনকারী, মাদক বহনকারী ও খুচরা বিক্রেতারা। তবে সীমান্তবর্তী পাঁচ থানায় তালিকাভুক্ত পাঁচ শতাধিক শীর্ষ মাদক কারবারির কেউ এখনো আইনের আওতায় আসেনি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
গত ১৮ আগস্ট থেকে কুমিল্লায় মাদক নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে অভিযান শুরুর প্রায় এক মাস আগে থেকেই এ বিষয়ে প্রচার থাকায় জেলার শীর্ষ মাদক কারবারি ও গডফাদারদের অনেকে আত্মগোপনের সুযোগ পেয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। এরই মধ্যে সীমান্ত এলাকার সহস্রাধিক মাদক কারবারি জেলার বাইরে বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করেছে বলেও দাবি সূত্রের।
জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, গত কয়েক দিনের অভিযানে দুই শতাধিক খুচরা মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হাতেনাতে মাদকসহ আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। সেবনের অভিযোগে আটক ব্যক্তিদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেয়া হচ্ছে।
তবে যাদের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে এবং যারা সীমান্ত দিয়ে মাদক এনে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে—এমন শীর্ষ কারবারিদের অনেককেই এখনো গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
জেলা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, শীর্ষ মাদক কারবারিদের গ্রেফতারে ডিবির কয়েকটি দল কাজ করছে। গডফাদারদের কেউ কেউ সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে অবস্থান করছে, আবার অনেকে জেলার বাইরে আত্মগোপনে রয়েছে। তাদের কেউ কেউ মোবাইল বা অন্যান্য যোগাযোগের ডিভাইস ব্যবহার না করায় প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী আদর্শ সদর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর এলাকার আবুল বাশার বলেন, এলাকার শীর্ষ মাদক কারবারিদের এখনো কেউ ধরা পড়েনি। পুলিশের অভিযানের খবর পেয়ে তারা আত্মগোপনে রয়েছে।
সদর দক্ষিণের দলকিয়া এলাকার বাসিন্দা সোলাইমান আহমেদ বলেন, এলাকার শীর্ষ মাদক কারবারিরা প্রকাশ্যেই দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের তেমন কোনো প্রভাব তাদের ওপর পড়েনি।
পাঁচ থানায় কারবারিদের তালিকা
সূত্রের দাবি, আদর্শ সদর উপজেলার জঙ্গলপুরের ইমরান হোসেন, রনি, নুরু মিয়া, শুভপুরের পেয়ার আহমেদ, জামবাড়ীর রাকিব, শাসনগাছার বেবি, ধর্মপুরের রানু বেগম ও হান্নান মিয়াসহ অর্ধশতাধিক মাদক কারবারি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সোনা মিয়া, হেলাল, মুখলেছ, রিপন, আলী আকবর, বিল্লাল হোসেন, সামির উদ্দিন, জামাল হোসেন, জাহাঙ্গীর মিয়া, রফিকুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম, মামুন মিয়া, বাহাদুর, আব্দুল জলিল ও দেলোয়ার হোসেনসহ আরও অনেকে এ তালিকায় রয়েছেন বলে সূত্রের দাবি।
বুড়িচং উপজেলার হুমায়ুন মেম্বার, মহসিন, রবিউল ইসলাম রবি, বিল্লাল হোসেন, কাজল খান, ফিরোজ, মো. জসিম উদ্দিন ওরফে মামা জসিম, কামাল হোসেন ওরফে ফেন্সি কামাল, মোস্তফা, এসহাক ও হৃদয়সহ অনেকে এখনো গ্রেফতার হননি বলে জানা গেছে।
সদর দক্ষিণে নাজমুল হাসান, শামীম, শাকিল, রুবেল, ফারুক, সুমন, নুরু, জুলহাস, সাইফুল, আলমগীর হোসেন ও শাহীনসহ দুই শতাধিক মাদক কারবারি প্রকাশ্যে ব্যবসা পরিচালনা করছে বলে সূত্রের দাবি।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আবুল কাশেম, ছোট মোতালেব, বিটু, সুমন, সৈকত, বেলাল, বাবুল, পেয়ার আহমেদ, কামাল ভূঁইয়া, খলিলুর রহমান, মিজান, ছুট্রু ও হৃদয়সহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ কারবারিও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।
গডফাদারদের গ্রেফতারের দাবি
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাদকের সরবরাহ চেইন ভাঙতে শুধু খুচরা বিক্রেতা ও বহনকারীদের গ্রেফতার করলে হবে না। মাদকের নেপথ্যের নিয়ন্ত্রকদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি। স্থানীয়দের অভিযোগ, শীর্ষ কারবারিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকলে মাদকবিরোধী অভিযান কাঙ্ক্ষিত ফল দেবে না।
মাদকবিরোধী সংগঠন লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘের সভাপতি কাউসার আলম সোহেল বলেন, চলমান সাঁড়াশি অভিযানে শীর্ষ গডফাদাররা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
কুমিল্লা জেলা ডিবির ওসি মোহাম্মদ শামছুল আলম শাহ বলেন, সাঁড়াশি অভিযানে এ পর্যন্ত দুই শতাধিকের বেশি ছোটখাটো মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারী গ্রেফতার হয়েছে। গডফাদার ও শীর্ষ কারবারিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক কারবারিদের কোনোভাবেই ছাড় দেয়া হবে না।
আরও পড়ুন:






