মঙ্গলবার

২৫ আগস্ট, ২০২৬ ১০ ভাদ্র, ১৪৩৩

বিবাহের ১৫ দিনেই বিচ্ছেদের খবর, কীটনাশক পানে যুবকের মৃত্যু

মোঃ হামজা শেখ, রাজবাড়ী প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৫ আগস্ট, ২০২৬ ০৮:৩৪

শেয়ার

বিবাহের ১৫ দিনেই বিচ্ছেদের খবর, কীটনাশক পানে যুবকের মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে স্ত্রীর পাঠানো বিচ্ছেদের (ডিভোর্স) কাগজ হাতে পাওয়ার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে তানভীর রণক নামের এক যুবক আবারও কীটনাশক পান করে মারা গেছেন। সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহত তানভীর রণক বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের গোসাই গোবিন্দপুর গ্রামের ইব্রাহিম শেখ ও কনিকা বেগম দম্পতির ছেলে।

তানভীর রণক এর আগে প্রবাশে কর্মরত ছিলেন বলে জানিয়েছে পরিবার।

পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ৯ আগস্ট রাজবাড়ী আদালতে ফাতেমা নামের এক তরুণীর সঙ্গে তানভীরের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাঁরা ঢাকাসহ টাঙ্গাইলে অবস্থান করেন। পরে ফাতেমার পরিবারের অনুরোধে তাঁকে বাবার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

তানভীরের স্বজনদের অভিযোগ, বাবার বাড়িতে যাওয়ার পর ফাতেমাকে বিভিন্নভাবে চাপ দেয়া হয়। একই সঙ্গে তানভীরের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ তাঁদের।

স্বজনদের ভাষ্য, স্ত্রীকে সংসারে ফিরিয়ে আনার আশায় ওই টাকা জোগাড়ের চেষ্টা করেন তানভীর। এ জন্য সাত শতাংশ জমি বিক্রির উদ্যোগও নিয়েছিলেন তিনি। জমি বিক্রির দলিল করার প্রস্তুতির মধ্যেই তাঁর কাছে স্ত্রীর বিচ্ছেদের কাগজ পাঠানো হয়।

পরিবারের দাবি, রবিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কামারখালী এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে তানভীর প্রথমবার কীটনাশক পান করেন। গুরুতর অবস্থায় তাঁকে প্রথমে যশোরের একটি হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। এরপর তাঁকে আবার ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সোমবার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মুঠোফোনে স্ত্রীপক্ষের পাঠানো বিচ্ছেদের কাগজ দেখতে পান তানভীর। স্বজনদের দাবি, বিষয়টি জানার পর তিনি আরও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে হাসপাতালের বাইরে গিয়ে তিনি ফের কীটনাশক পান করেন।

এরপর স্বজনরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় তানভীরের পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্ত্রীপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে বালিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা

(ওসি) আব্দুর রব তালুকদার বলেন, এ বিষয়ে থানায় এখনো কোনো অভিযোগ বা তথ্য আসেনি। তথ্য পাওয়া গেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।



banner close
banner close