বৃহস্পতিবার

২৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২ ভাদ্র, ১৪৩৩

কুমিল্লায় গৃহবধূ হত্যা, তিনজনের যাবজ্জীবন

রোবেল আহমেদ তানভীর, কুমিল্লা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট, ২০২৬ ২১:১৯

শেয়ার

কুমিল্লায় গৃহবধূ হত্যা, তিনজনের যাবজ্জীবন
ছবি সংগৃহীত

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে গৃহবধূ মরিয়ম বেগমকে শ্বাসরোধ করে হত্যার মামলায় তাঁর শ্বশুর, শাশুড়ি ও দেবরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে মামলার অপর আসামি নিহতের স্বামী আবদুল মতিনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুর ১টায় কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারক মো. শামছুল আলম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন নিহত মরিয়ম বেগমের শ্বশুর আবদুল মমিন, শাশুড়ি ফাতেমা বেগম ও দেবর মো. নিজাম উদ্দিন।

আদালত সূত্র ও মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে পারিবারিক কলহের জেরে নাঙ্গলকোট উপজেলার ছফুয়া গ্রামের গৃহবধূ মরিয়ম বেগমকে গলাটিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় পরদিন নিহতের বাবা মো. সোলেমান বাদী হয়ে নাঙ্গলকোট থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় মরিয়মের স্বামী আবদুল মতিন, শ্বশুর আবদুল মমিন, দেবর মো. নিজাম উদ্দিন ও শাশুড়ি ফাতেমা বেগমকে আসামি করা হয়।

মামলার তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মামলায় ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।

পরে যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে মামলার নথিপত্র, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পর্যালোচনা করে আদালত তিন আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করেন। তাঁদের প্রত্যেককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

একই মামলায় নিহতের স্বামী আবদুল মতিনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার পর বাদীপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট মো. ইকরাম হোসেন এবং নিহতের স্বজনরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর এ রায়ের মাধ্যমে মরিয়ম বেগম হত্যার ঘটনায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।