চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেছেন, নিয়োগ ও সরকারি বরাদ্দের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দলীয়করণ করা যাবে না। যোগ্যতা, মেধা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ ও বরাদ্দ দেওয়ার সংস্কৃতি বাঁশখালীতে আর চলবে না।
সোমবার সকালে বাঁশখালী অফিসার্স ক্লাবের হলরুমে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা ও মানব পাচার প্রতিরোধ কমিটির মাসিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন।
সম্প্রতি ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬ কার্যক্রমে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ নিয়ে ওঠা অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে এমপি জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বাঁশখালীতে স্বচ্ছ নিয়োগের প্রত্যাশা করেছিলাম, কিন্তু পাইনি। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের দলীয়করণ নয়; যোগ্যতা, মেধা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।’
নকলমুক্ত পরীক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার নকলমুক্ত পরীক্ষা আয়োজনের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সিসি ক্যামেরাসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে পরীক্ষাকেন্দ্রে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে কোনো কোনো পরীক্ষায় আবারও নকলের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে সংশ্লিষ্টদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে জহিরুল ইসলাম বলেন, সরকার স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক নিয়োগ প্রক্রিয়া চায়। সরকারের সদিচ্ছা বাস্তবায়ন না করে কেউ যেন সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে না ফেলেন। কোনো ধরনের বৈষম্যমূলক কর্মকাণ্ড করা যাবে না। তিনি বলেন, ‘এখানে প্রয়োজনে কাজ করতে না চাইলে অন্যত্র চলে যান।’
রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক কর্মকাণ্ড নিয়েও বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, ‘এই দেশ আমাদের সবার। সবার সমান অধিকার রয়েছে।’ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে পারস্পরিক সহনশীলতা ও সবার অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ‘আসুন, বৈষম্য বাদ দিয়ে প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সঙ্গে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করি। তাহলেই দেশ এগিয়ে যাবে।’
সম্প্রতি বাঁশখালীতে ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬ কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ও রিজার্ভ ব্যক্তিদের তালিকা প্রকাশের পর কয়েকজন আবেদনকারী যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে দলীয় ব্যক্তিদের নিয়োগ দেয়ার অভিযোগ তোলেন।
গত মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন স্বাক্ষরিত একটি তালিকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অধিকাংশ আবেদনকারী ও স্থানীয় সচেতন মহলের প্রতিনিধিরা।
অভিযোগের প্রতিবাদে আবেদনকারীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচির ঘোষণা দেন। এর বিপরীতে সরকারের ১৮০ দিনের কর্মযজ্ঞ এবং দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমকে স্বাগত জানিয়ে বাঁশখালীতে মিছিল করেন উপজেলা ও পৌরসভা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। ওই মিছিলে জামায়াত-শিবিরবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেয়া হয়।
ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ নিয়ে ওঠা অভিযোগের মধ্যে সোমবার উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের দেয়া বক্তব্য স্থানীয়ভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সভায় নিয়োগে দলীয়করণ না করা এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।
এ সময় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং অফিসার্স ক্লাবের সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন:








