ঝিনাইদহের মহেশপুরে নিখোঁজের দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও সন্ধান মেলেনি দশম শ্রেণির স্কুলছাত্রী নিঝুম খাতুনের (১৫)। মেয়েকে ফিরে পেতে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেও কোনো কূলকিনারা না পেয়ে হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন তার পরিবার।
নিঝুম খাতুন উপজেলার কানাইডাঙ্গা গ্রামের হযরত আলী ও তাসলিমা খাতুন দম্পতির মেয়ে। সে ফতেপুর সামছুদ্দিন সরদার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পরিবারের দাবি, গত ১৩ মার্চ ২০২৫ তারিখে নিঝুম নিখোঁজ হয়।
এ ঘটনায় নিঝুমের মা তাসলিমা খাতুন বাদী হয়ে মহেশপুর থানায় পাঁচজনকে আসামি করে অপহরণ মামলা করেন। মামলা হওয়ার পর থেকে মেয়েকে উদ্ধারের আশায় পুলিশের পাশাপাশি প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করে আসছেন তিনি। তবে এখন পর্যন্ত নিঝুমের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে ফতেপুর ইউনিয়নের এক ইউপি সদস্যের ছেলে জিমকে আটক করেছিল পুলিশ। তবে তার কাছ থেকেও নিঝুমের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে পরিবারের দাবি। বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই হিমানিশ জানান, এখনো পর্যন্ত মামলার কোনো কূলকিনারা করা সম্ভব হয়নি। তদন্তের জন্য নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় আদালতে আবেদন করে সময় বাড়ানো হয়েছে।
মামলার আইনগত সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার বাংলাদেশ-এর আইনজীবী অ্যাডভোকেট শ্রীবন্তীর দাবি, নিখোঁজ স্কুলছাত্রীকে উদ্ধারে এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি পুলিশ। গত ১৯ আগস্ট মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে বিচারক তদন্তকারী কর্মকর্তার পাশাপাশি ঝিনাইদহ ক্রাইম কন্ট্রোল টিমকেও তদন্তে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
নিঝুমের মা তাসলিমা খাতুন বলেন, দেড় বছর ধরে মেয়েকে উদ্ধারের জন্য বিভিন্ন জায়গায় ছুটে বেড়িয়েছেন। কিন্তু এখনো মেয়ের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় তারা চরম হতাশায় রয়েছেন। নিঝুম জীবিত আছে নাকি তার কোনো ক্ষতি হয়েছে—এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে পরিবারের।
তাসলিমার আরও অভিযোগ, মামলার পাঁচ আসামির মধ্যে চারজনই বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। মামলা তুলে নিতে বিভিন্ন মাধ্যমে তাকে চাপ দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং বিষয়টি জানিয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করেছেন। একই সঙ্গে আসামিদের জামিন বাতিলের জন্য আদালতে আবেদন করেছেন তিনি।
দেড় বছর ধরে নিখোঁজ থাকা স্কুলছাত্রী নিঝুম খাতুনকে দ্রুত উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তার স্বজনরা।
আরও পড়ুন:








