সোমবার

২৪ আগস্ট, ২০২৬ ৮ ভাদ্র, ১৪৩৩

নন্দিনী হত্যা মামলায় প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড

রংপুর ব্যুরো চিফ:

প্রকাশিত: ২৩ আগস্ট, ২০২৬ ২১:০৪

শেয়ার

নন্দিনী হত্যা মামলায় প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড
ছবি সংগৃহীত

লালমনিরহাটের আদিতমারীতে আলোচিত শিশু নন্দিনী হত্যা মামলায় প্রধান আসামি বিধান চন্দ্রের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় তার মা মমতা রানী ও বাবা রনজিত কুমারকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও তিন মাস করে কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

রবিবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে লালমনিরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক হায়দার আলী এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় তিন আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত নন্দিনীর স্বজনরা। নন্দিনীর বাবা নলনী মোহন বর্মন প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ১৬ এপ্রিল বিকেল থেকে আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে সাত বছর বয়সী নন্দিনী নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা রাতভর খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরদিন সকালে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাক্ষেতে নরম মাটি দেখতে পেয়ে সন্দেহ হলে সেখানে খোঁড়াখুঁড়ি করা হয়। পরে মাটির নিচ থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় নন্দিনীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বিধান চন্দ্রকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করতে গেলে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা তার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষে অন্তত ১৮ পুলিশ সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়।

ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধান। এ সময় তাদের বহরে হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হুমায়ুন রেজা স্বপন জানান, মাত্র ছয় কার্যদিবসের মধ্যে চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার বিচার শেষ করে রায় ঘোষণা করা হয়েছে। দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

আদালত সূত্রে জানা যায়, নন্দিনীর মরদেহ গুমে সহযোগিতার দায়ে বিধান চন্দ্রের বাবা-মাকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। প্রধান আসামি বিধান চন্দ্রের মৃত্যুদণ্ডের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা। রায় ঘোষণার পর এলাকায় এ মামলাটি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।



banner close
banner close