দীর্ঘ প্রায় আট বছর ধরে সংস্কার না হওয়ায় বেহাল হয়ে পড়েছে লক্ষ্মীপুর-রায়পুর আঞ্চলিক মহাসড়ক। লক্ষ্মীপুর থেকে রায়পুরের বর্ডার বাজার পর্যন্ত প্রায় ২২ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন অংশজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য বড় বড় খানাখন্দ ও গর্ত। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্ত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে বাস, ট্রাক, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন। এতে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন হাজারো যাত্রী।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে গিয়ে ইট ও খোয়া বেরিয়ে এসেছে। কোথাও আবার বড় বড় গর্তে জমে আছে বৃষ্টির পানি। গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে যানবাহনগুলোকে কখনো রাস্তার এক পাশ, আবার কখনো বিপরীত পাশ দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। পাশাপাশি ধীরগতিতে যানবাহন চলাচলের কারণে কোথাও কোথাও যানজটেরও সৃষ্টি হচ্ছে।
সড়কের সবচেয়ে নাজুক অংশগুলোর মধ্যে রয়েছে রায়পুরের চৌধুরীদের পোল থেকে বর্ডার, ফিশারি গেট থেকে জনতা বাজার, বাসাবাড়ি থেকে রাখালিয়া এবং লক্ষ্মীপুর থেকে মাইলের মাথা পর্যন্ত এলাকা।
সড়কে চলাচলকারী যাত্রীদের অভিযোগ, খানাখন্দের কারণে স্বাভাবিক গতিতে যানবাহন চলাচল করতে পারে না। ফলে অল্প দূরত্বের পথ পাড়ি দিতেও দীর্ঘ সময় লাগছে। অতিরিক্ত ঝাঁকুনির কারণে শিশু, নারী ও বয়স্কদের নিয়ে চলাচলে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি হচ্ছে।
একজন যাত্রী বলেন, রাস্তার অবস্থা খুব খারাপ। গাড়িতে উঠলে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি লাগে। অল্প দূরত্ব যেতে অনেক সময় লাগে। দ্রুত রাস্তা সংস্কার করা দরকার।
এক নারী যাত্রী বলেন, বৃষ্টির সময় গর্তগুলো পানিতে ডুবে যায়। তখন কোথায় রাস্তা আর কোথায় গর্ত বোঝা যায় না। নারী, শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে চলাচল করতে অনেক কষ্ট হয়।
আরেক যাত্রী বলেন, প্রতিদিন এই সড়কে যাতায়াত করি। গাড়িগুলো খুব ধীরে চলে। রাস্তার কারণে সময়ও বেশি লাগে, ভোগান্তিও হয়।
শুধু যাত্রী নয়, সড়কের বেহাল অবস্থায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন মোটরসাইকেল চালকরাও। গর্তে পানি জমে থাকায় এর গভীরতা বোঝা যায় না। ফলে হঠাৎ চাকা গর্তে পড়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, মোটরসাইকেল নিয়ে এই রাস্তায় চলাচল করা খুব ঝুঁকিপূর্ণ। আমার আগের একটি মোটরসাইকেল নষ্ট হয়ে গেছে। শুকনা থাকলে গর্ত কিছুটা দেখা যায়, কিন্তু বৃষ্টির সময় পানির নিচে গর্ত বোঝা যায় না।
সড়কটির ওপর দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক ভারী যানবাহন চলাচল করে। ভাঙাচোরা সড়কের কারণে ট্রাকচালকদেরও পড়তে হচ্ছে নানা সমস্যায়।
একজন ট্রাকচালক বলেন, গর্তের কারণে গাড়ির অনেক যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যায়। বড় গর্তে চাকা পড়লে গাড়ির নিয়ন্ত্রণও কঠিন হয়ে পড়ে।
আরেক ট্রাকচালক বলেন, ভারী গাড়ি নিয়ে এই রাস্তা পার হতে অনেক সময় লাগে। গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে অন্য গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকে। রাস্তা দ্রুত ঠিক করা দরকার।
স্থানীয় পরিবহনের অন্যতম মাধ্যম সিএনজিচালিত অটোরিকশা। সড়কের বেহাল দশায় এসব যানবাহনের চালকরাও রয়েছেন চরম বিপাকে।
একজন সিএনজি চালক বলেন, গর্তের কারণে গাড়ি চালাতে খুব সমস্যা হয়। প্রায়ই গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়। আয় যা হয়, তার একটা বড় অংশ মেরামতে চলে যায়।
আরেক চালক বলেন, বৃষ্টির সময় সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয়। গর্তে পানি জমে থাকায় বুঝতে পারি না কোথায় চাকা ফেলব। যাত্রীদের নিয়েও ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয়।”
অন্য এক সিএনজি চালক বলেন, রাস্তা খারাপ হওয়ায় অল্প দূরত্বেও বেশি সময় লাগে। যাত্রীরাও বিরক্ত হন, আমরাও সমস্যায় পড়ি। দ্রুত সংস্কার চাই।
এক অটোরিকশাচালক বলেন, এই রাস্তার গর্তের কারণে অটোরিকশা চালানো কঠিন হয়ে গেছে। গর্তে পড়ে গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কর্তৃপক্ষ দ্রুত রাস্তা ঠিক করলে আমাদেরও উপকার হবে, যাত্রীদেরও দুর্ভোগ কমবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কারের দাবি জানানো হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। মাঝে মধ্যে ছোটখাটো মেরামত করা হলেও কিছুদিন পর আবারও আগের অবস্থায় ফিরে যায় সড়কটি। গুরুত্বপূর্ণ এই আঞ্চলিক মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন লক্ষ্মীপুর, রায়পুর ও চাঁদপুরের মধ্যে বিপুলসংখ্যক মানুষ ও পণ্যবাহী যান চলাচল করে।
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম জানান, লক্ষ্মীপুর থেকে রায়পুর বর্ডার বাজার পর্যন্ত প্রায় ২২ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের জন্য ইতোমধ্যে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজও পেয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে সংস্কারকাজ শুরু হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
দীর্ঘ আট বছর সংস্কার না হওয়া গুরুত্বপূর্ণ এই আঞ্চলিক সড়কটি দ্রুত সংস্কার না হলে জনদুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তাই প্রতিশ্রুত সংস্কারকাজ দ্রুত শুরু করে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
আরও পড়ুন:








