রবিবার

২৩ আগস্ট, ২০২৬ ৮ ভাদ্র, ১৪৩৩

মেহেরপুরে ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন, রায় শুনে আদালত প্রাঙ্গণে জ্ঞান হারালেন আসামি

সেলিম রেজা, মেহেরপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৩ আগস্ট, ২০২৬ ১৬:৩০

আপডেট: ২৩ আগস্ট, ২০২৬ ১৬:৩১

শেয়ার

মেহেরপুরে ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন, রায় শুনে আদালত প্রাঙ্গণে জ্ঞান হারালেন আসামি
ছবি: বাংলা এডিশন

মেহেরপুরে এক ধর্ষণ মামলায় কলিম উদ্দিন ওরফে কালু নামের এক ব্যক্তি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে।

রবিবার দুপুরের দিকে মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আলী মাসুদ শেখ এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার পর এজলাস থেকে বের হয়ে কালু জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত কালু মেহেরপুর জেলার পিরোজপুর এলাকার মৃত আব্দুল মন্ডলের ছেলে। তিনি পিরোজপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার)।

মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর রাতে ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধী নারী রাতের খাবার খেয়ে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় কালু তার ঘরে ঢুকে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। মেয়েটির চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে কালু পালিয়ে যান এবং এ বিষয়ে কাউকে কিছু না বলার জন্য ভুক্তভোগীর পরিবারকে হুমকি দেন। পরে ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মেহেরপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রাথমিক তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। আদালতে ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে অভিযুক্ত কালুর অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া এবং সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্ত পিরোজপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ও প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা কালুর অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, আজকের এই আদেশ প্রমাণ করে আসামি যত বড়ই প্রভাবশালী হোক না কেন, আইনের দৃষ্টিতে সকলেই সমান। আজকের এই সাজার মধ্য দিয়ে তা আবারও প্রমাণিত হয়েছে।

আদালতে আসামী পক্ষের আইনজীবী হিসেবে এ্যাড: পল্লব ভট্টাচার্য ও এ্যাড : ইব্রাহীম শাহীন উপস্থিত ছিলেন।



banner close
banner close