হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ১০ নম্বর লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর ভাঙনকবলিত বাঁধ দেড় মাসেও স্থায়ীভাবে মেরামত না হওয়ায় উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের চাপে আজ রবিবার সকালে আবারও ধসে পড়েছে। এতে দ্রুতগতিতে লোকালয়ে বানের পানি প্রবেশ করায় নতুন করে প্লাবনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আতঙ্কে রয়েছেন নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা।
বাঁধ ভেঙে পানি লোকালয়ে প্রবেশের খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ্ব জি কে গউছ। তিনি ভেঙে যাওয়া বাঁধ ও মেরামতকাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন।
এ সময় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত লস্করপুর ইউনিয়নের ১ হাজার ৫০০ মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত রাশেদ মাইল আল যাবি, বাংলাদেশ এডুকেশন টেকনোলজিস্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান মো. এনামুল হক খন্দকার, হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জি এম সরফরাজ, পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান, হবিগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আবু জাহের, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদুল হকসহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
পরিদর্শন শেষে হুইপ জি কে গউছ স্থানীয় বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার পাশাপাশি কী কারণে বাঁধটি ভেঙেছে, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে গত ৯ জুলাই রাতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের চাপে একই এলাকায় খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছিল। এতে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, ফসলি জমিসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। স্থানীয়দের হিসাবে, ওই দফার বন্যায় প্রায় ২০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।
পরে বাঁধ নির্মাণ ও মেরামতের জন্য সরকার ৮৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। কিন্তু বরাদ্দের পর দেড় মাস না যেতেই বাঁধের ভাঙা অংশ আবারও ধসে পড়ায় মেরামতকাজের মান, স্থায়িত্ব ও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
নতুন করে বাঁধ ধসে পড়ায় দ্রুত পানি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে এবার অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। ইতোমধ্যে ভাঙা অংশ দিয়ে পানি প্রবেশ শুরু হওয়ায় নদীতীরবর্তী এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, ৮৮ লাখ টাকা বরাদ্দের পর বাঁধ মেরামতের কাজ কতটুকু হয়েছে, কীভাবে কাজটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং দেড় মাসের মধ্যেই কেন বাঁধটি আবার ধসে পড়ল?
এ অবস্থায় দ্রুত পানি প্রবেশ বন্ধ করার পাশাপাশি বাঁধ মেরামতকাজের মান যাচাই, ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসাব নিরূপণ এবং খোয়াই নদীর ভাঙন ঠেকাতে স্থায়ী ও টেকসই ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
আরও পড়ুন:








