দীর্ঘ ২৫ বছর পর গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক এলাকার অন্ধরটেক গ্রামে বৈদ্যুতিক বাতি জ্বলছে। বাংলা এডিশনে সংবাদ প্রকাশের পর এই সংযোগ মিলেছে।
২০০১ সাল থেকে একটি পরিত্যক্ত জমিতে বসবাস করে আসছে ৪৫টি ভূমিহীন পরিবারের প্রায় সাড়ে ৪০০ মানুষ। এর মধ্যে ২৭টি ঘরে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা থাকেন। বাকিগুলোতে তাদের সন্তানেরা। চারপাশে বিদ্যুতের আলো থাকলেও এই জনপদের পরিবারগুলো দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছর ধরে বিদ্যুৎবঞ্চিত ছিল।
এই বঞ্চনার নেপথ্যে রয়েছে দুই দশকের পুরোনো ভূমি বিরোধ। জমির মালিকানা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে তারা বিদ্যুৎবঞ্চিত ছিলেন। ২০০৩ সালে অন্ধ কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে প্রায় সাড়ে ৪ একর জমি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের নামে বন্দোবস্ত দেয়ার আবেদন করা হয়। পরবর্তীতে একটি পক্ষ তা জবরদখলের চেষ্টা চালালে আদালতের দ্বারস্থ হয় বাসিন্দারা। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ায় আদালত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের পক্ষে স্থিতাবস্থা আদেশ দেন।
সম্প্রতি বাংলা এডিশনে চোখে আলো নেই বিদ্যুতের আলোও পৌঁছায়নি গাজীপুরের যে গ্রামে শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়, বিদ্যুৎ ছাড়াও এখানে গ্যাস, বিশুদ্ধ পানি, স্কুল বা মসজিদ-মাদ্রাসার মতো ন্যূনতম নাগরিক সুবিধা নেই। গ্রামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না থাকা এবং বিদ্যুতের অভাবে কোমলমতি শিশুদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বাধ্য হয়ে মাঝপথে স্কুল ছাড়ছে অনেকেই।
সংবাদটি প্রকাশের পর প্রশাসনের টনক নড়ে। নেয়া হয় নতুন উদ্যোগ। শনিবার (৩০ মে) বিদ্যুৎ অফিসে আবেদন করে বাসিন্দারা। এরপর বুধবার (২২ জুলাই) শর্তসাপেক্ষে অনুমোদন মেলে একটি মিটারের। বর্তমানে এটি দিয়ে পানি তোলার ব্যবস্থা করা হলেও ৪৫টি পরিবারের বিদ্যুতের বিশাল চাহিদা মেটাতে একটি মাত্র মিটার অপ্রতুল। তাই প্রতিটি পরিবারের জন্য আলাদা মিটারের দাবি তাদের।
মূলত সংবাদটি প্রকাশের পর জেলা প্রশাসক নুরুল কবির ভূঁইয়ার নির্দেশেই মিলেছে এই মিটার। এ উদ্যোগে বাংলা এডিশনের চেয়ারম্যান সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ অন্ধ কল্যাণ সমিতি।
হাফেজ লাল চান সরদার, সভাপতি, বাংলাদেশ অন্ধ কল্যাণ সমিতি। সরকারের পক্ষ থেকে পাওয়া এই সহযোগিতায় ধন্যবাদ জানিয়ে নিজেদের আগামী দিনের প্রত্যাশা তুলে ধরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও।
মো. ফারুক, স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য।
ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর মৌচাক জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ রফিকুল আজাদ বাংলা এডিশনকে জানান, স্থানীয় জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্যের লিখিত নির্দেশনার ভিত্তিতে জরুরি প্রয়োজনে পানি তোলার জন্য একটি মিটার সংযোগ দেয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যেই ৪৫টি পরিবারের প্রতিটি ঘরে আলাদা মিটার সরবরাহ করা হবে।
দীর্ঘ পঁচিশ বছর পর একটি মিটার প্রাপ্তি অন্ধরটেকের বাসিন্দাদের মনে কিছুটা আশার আলো দেখালেও তাদের প্রত্যাশা এখন একটাই, প্রতিটি পরিবারের ঘরে পৌঁছাতে হবে বিদ্যুতের আলো। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগই পারে দীর্ঘদিনের এই অমানবিক বঞ্চনার চিরস্থায়ী অবসান ঘটাতে।
আরও পড়ুন:








