কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় যৌথ অভিযান চালিয়ে ৫৫টি ভারতীয় চোরাই মোবাইল ফোন জব্দ করেছে পুলিশ ও বিজিবি। এ সময় এক চোরাকারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাত ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত উপজেলার তিলাই ইউনিয়নের আসাদমোড় এলাকায় এ সাঁড়াশি অভিযান পরিচালিত হয়।গ্রেফতারকৃত মো. এনামুল হক অন্তর (২৬) ওই এলাকার বিএসসি পাড়া উত্তর তিলাইয়ের মো. ময়েন আলীর ছেলে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুনের নির্দেশনায় এবং কুড়িগ্রাম-২২ বিজিবির ধলডাংগা ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার মো. মতিউর রহমানের নেতৃত্বে এই যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে অংশ নেন ভূরুঙ্গামারী থানার এসআই সাইফুল ইসলাম, আল-আমিন ও আসাদুজ্জামানসহ পুলিশ ও বিজিবির একটি বিশেষ দল।
অভিযান চলাকালীন আসামি এনামুল হক অন্তরের বসতবাড়ির হাঁস-মুরগির খোঁয়াড়ে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৫৫টি চোরাই মোবাইল উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিলাই ইউনিয়নের আসাদমোড় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ মোবাইল চোরাচালানের নিরাপদ জোনে পরিণত হয়েছিল। ভারত থেকে সীমান্ত পেরিয়ে আসা চুরি ও ছিনতাইকৃত মোবাইলগুলো এই রুট দিয়ে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করত। এরপর রংপুর ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাইকারি ব্যবসায়ীরা এসে এসব ডিভাইস কিনে নিয়ে যেত।
গোপন ও সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে আইফোন, মটোরোলা, অপ্পো, রেডমি,রিয়েলমি, ভিভো সহ ৫৫ টি ব্যবহৃত ভারতীয় মোবাইল উদ্ধার করা হয়।
অবৈধভাবে আমদানিকৃত ও রেজিস্ট্রেশনবিহীন এসব ডিভাইসের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৩ লক্ষ টাকা বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রেজিস্ট্রেশনহীন ও অবৈধ আইএমইআই (IMEI) যুক্ত এসব ফোন অপরাধমূলক কার্যক্রমে ব্যবহৃত হতো বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, “আসাদমোড় এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে চোরাকারবারিদের আখড়ায় পরিণত হয়েছিল। বিজিবির সহযোগিতায় সুপরিকল্পিতভাবে অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ চোরাই মোবাইল জব্দ ও মূল হোতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় অপরাধ দমনে এবং চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে আমাদের এমন যৌথ অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।”
আরও পড়ুন:








