মাধবপুরে ফার্মেসিতে ঢুকে মোবাইল চুরির অভিযোগে এক যুবককে আটক করে স্থানীয়রা। পরে তার কাছ থেকে আরও তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। তবে থানায় না দিয়ে স্থানীয় মাতব্বরদের সিদ্ধান্তে তাকে ২০০ রাকাত নফল নামাজ পড়ার ‘শাস্তি’ দিয়ে ছেড়ে দেয়ার ঘটনায় এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের মালেক সুপার মার্কেটের একটি ফার্মেসিতে।
আটক যুবক শরিফ উদ্দিনের বয়স ২০ বছর। তিনি উপজেলার ছাতিয়াইন ইউনিয়নের দাসপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
ফার্মেসির মালিক সাহিরুল ইসলামের ভাষ্য, চোখের সমস্যা ও ড্রপ নেয়ার কথা বলে ফার্মেসিতে প্রবেশ করেন শরিফ। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ তাকে ধাক্কা দিয়ে একটি মোবাইল ফোন নিয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন তিনি। এ সময় স্থানীয়রা ধাওয়া করে তাকে আটক করেন।
পরে শরিফের পকেট তল্লাশি করে আরও তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয় বলে স্থানীয়রা জানান।
তবে আটকের পর তাকে পুলিশের কাছে না দিয়ে স্থানীয় মাতব্বরদের সিদ্ধান্তে ২০০ রাকাত নফল নামাজ পড়ার নির্দেশ দেয়া হয়। শরিফ চার রাকাত নামাজ আদায় করে এলাকাবাসীর কাছে ক্ষমা চান। এরপর তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।
শরিফ উদ্দিনের দাবি, মোবাইল দেখলে তিনি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না। মোবাইল না নেয়া পর্যন্ত চেষ্টা করতে থাকেন।
এদিকে, চুরির অভিযোগে একজনকে আটক করার পর স্থানীয়ভাবে ‘শাস্তি’ দিয়ে ছেড়ে দেয়ার ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে আইনি প্রক্রিয়া নিয়েও। অভিযোগ থাকলে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর না করে এভাবে ছেড়ে দেয়া আইনসম্মত কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।
মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোহেল রানা জানিয়েছেন, শরিফকে যেখানেই পাওয়া যায়, আটক করতে ছাতিয়াইন পুলিশ ফাঁড়িকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনগুলোর মালিক কারা, যুবকের বিরুদ্ধে আরও কোনো অভিযোগ রয়েছে কি না এবং স্থানীয়ভাবে তাকে ছেড়ে দেয়ার বিষয়টি পুলিশ কীভাবে দেখছে তা এখন খতিয়ে দেখার বিষয়।
আরও পড়ুন:








