নিজের উপর চাপ কিংবা একটু অবসর সময় কাটানোর জন্য অভিনব এক কৌশল করেছেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক। এমন কৌশল আগে দেখেন নি হাওর পারের সাধারণ মানুষ, যে কোনো সমস্যা কিংবা অভিযোগ বা দাপ্তরিক কাজে প্রথমেই মনে পড়ে জেলা প্রশাসক কে। পুরো জেলার মানুষ বিভিন্ন কাজে ছুটে যান জেলা প্রশাসকের কাছে যদিও এসব তাঁর দায়িত্ব কিন্তু নিজের উপর থেকে চাপ কমাতে নতুন এক কৌশল করেছেন সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান।
দায়িত্ব বন্টন-
সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের বিভিন্ন সেবা, তথ্য প্রদান, অভিযোগ গ্রহণ, পরামর্শ দেয়া এবং গণমাধ্যমে সব বিষয়ে বক্তব্য দেবেন না জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান। নানা কার্যক্রম ও গণমাধ্যমে বক্তব্য দেয়ার দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনের চার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের মধ্যে।
বুধবার সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সাধারণ শাখা থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
আলোচনা-সমালোচনা - সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে নানান আলোচনা সমালোচনা, মজা করে অনেকেই মন্তব্য করছেন দায়িত্ব বন্টন করে দিয়ে নিজেকে একটু সময় দিতে চাচ্ছেন তিনি। নতুন সিদ্ধান্ত কে ঘিরে সুনামগঞ্জের সাংবাদিক মহলে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। জেলা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সরাসরি বক্তব্য পাওয়ার সুযোগ ভবিষ্যতে কতটা থাকবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ এ সিদ্ধান্তকে ব্যঙ্গাত্মক ও রসাত্মকভাবে উপস্থাপন করে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
দায়িত্ব -১
অফিস আদেশে বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা, চোরাচালান রোধ, বর্ডার হাট, মোবাইল কোর্ট, টাস্কফোর্স অভিযান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণসহ আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্যের দায়িত্ব পেয়েছেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুনজিত কুমার চন্দ।
দায়িত্ব-২
জলমহাল ও বালুমহাল ইজারা, ভূমি উন্নয়ন কর, রাজস্ব আদায়, নামজারি ও নামজারি রিভিউসহ ভূমি-সংক্রান্ত তথ্যের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তাপস শীলকে।
দায়িত্ব-৩
জেলার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-সংক্রান্ত সেবা, আইসিটি, শিল্পকলা ও দুরারোগ্য রোগে আক্রান্তদের আর্থিক সহায়তাসহ সংশ্লিষ্ট তথ্যের দায়িত্ব পেয়েছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শাকিলা রহমান।
দায়িত্ব-৪
অন্যদিকে জাতীয় ও বিভিন্ন দিবস আয়োজন, বিভিন্ন এনজিওর কার্যক্রম বিষয়ক প্রত্যয়ন, সরকারি দপ্তরগুলোর সমন্বয় এবং অন্যান্য তথ্যের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মতিউর রহমান খানকে।
আদেশে প্রত্যেক কর্মকর্তার মুঠোফোন নম্বরও উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব বিষয়ে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেয়ার ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে জেলা প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সুনামগঞ্জে কর্মরত কয়েকজন সাংবাদিক। সাংবাদিকদের এসব মন্তব্যের মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের সরাসরি বক্তব্য ও যোগাযোগের সুযোগ কমে যাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে জেলা প্রশাসনের সার্বিক কার্যক্রম, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কিংবা জেলার বড় কোনো ঘটনায় গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের বক্তব্য প্রয়োজন হলে এ ব্যবস্থা কীভাবে কার্যকর হবে তা নিয়েও আলোচনা চলছে।
এখন থেকে জেলা প্রশাসনের কার্যক্রম চলবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক দিয়ে। গণমাধ্যম থেকে আপাতত জেলা প্রশাসক বিশ্রাম নিয়েছেন।
সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব পদ মর্যাদার স্বাক্ষর ক্ষমতা প্রাপ্ত সদস্য এডভোকেট আব্দুল হক বলেন, জেলা প্রশাসক এমনটা করতে পারেননা। তিনি তার দায়িত্ব এড়ানোর জন্য এমনটা করেছেন। যতদূর জানি তাঁর কাছে মানুষ ভীরতে পারে না। তার কাছে যেতে হলে অন্য জনকে ধরণা দিতে হয়। আমি ব্যক্তিগভাবেও এমন অভিজ্ঞার স্বীকার। তাঁকে ফোন দিলে তিনি ফোন উঠান না। অন্যজন ফোন করে জানতে চায় কেনো ফোন দেয়া হয়েছে। আমার কাছে মনে হচ্ছে ডিসি তার কাজে অযোগ্য। দায় এরাতে তিনি এমনটা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান"র সরকারি মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি।
এ ব্যাপারে সিলেটের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) আশরাফুর রহমান বলেন, আমি জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে আগে বিষয়টা জানি তারপর এটা নিয়ে কথা বলতে পারব।
আরও পড়ুন:








