চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার রামপুর বাজারে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে একদল দুর্বৃত্তের বিরুদ্ধে। দাবিকৃত চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ইবনে সিনা হেলথ কেয়ারের স্বত্বাধিকারী ও সাংবাদিক মিজানুর রহমান রানার ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি চাঁদপুর আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক মিজানুর রহমান রানা জানান, গত ২ আগস্ট থেকে রামপুর মজুমদার বাড়ির রবিউল ও তার বাবা দেলোয়ার হোসেন মজুমদার তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৮ আগস্ট রাতে রামপুর বাজারের পাঠান মেডিকেলের সামনে তার ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। হামলায় তার মুখ ও ঘাড়ে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ১৯ আগস্ট তাকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একই দিন এ ঘটনায় তিনি চাঁদপুর আদালতে মামলা দায়ের করেন।
সাংবাদিক মিজানুর রহমান রানা অভিযোগ করে বলেন, রবিউল ও তার বাবা দেলোয়ার হোসেন মজুমদার এর আগেও রামপুর বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবি করেছিলেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাদের লোকজন কয়েক মাস আগে বাজারের কয়েকটি দোকানে লুটপাট চালায়। ওই ঘটনার পর কয়েক দিন ধরে রামপুর বাজারে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা টহল দেন এবং কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ব্যবসায়ীরা এ ঘটনায় মামলা করার পর কিছুদিন চাঁদাবাজি ও লুটপাট বন্ধ ছিল।
তিনি আরও বলেন, গত ২ আগস্ট হঠাৎ করে রবিউল ও দেলোয়ার হোসেন তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ক্ষুব্ধ হয়ে গত ১৮ আগস্ট তার ওপর হামলা চালানো হয়।
স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী ও বাসিন্দার অভিযোগ, অভিযুক্তদের একটি দল গত কয়েক মাস ধরে এলাকায় লুটপাট ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। তাদের দাবিকৃত চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালানো এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে। তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে ৪ নম্বর কালচো দক্ষিণ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা স্বপন বলেন, অভিযুক্তরা বিএনপির কেউ নন। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য আমি তাদের কয়েকবার নিষেধ করেছি। কিন্তু তারা আমার কথাও শোনেনি। এ কারণে রাতেও কমিউনিটি পুলিশের সঙ্গে মিলে বাজার পাহারার ব্যবস্থা করেছি। সাংবাদিক মিজানুর রহমান রানার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনায় আমি অত্যন্ত দুঃখিত। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে আহত সাংবাদিক মিজানুর রহমান রানার স্বজনদের দাবি, হামলায় তার ঘাড়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশে গুরুতর আঘাত লেগেছে। তার মাথার এক পাশ অবশ হয়ে যাওয়ায় তিনি স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে ও হাঁটাচলা করতে পারছেন না। বর্তমানে তিনি চাঁদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে হামলা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক মহল।
আরও পড়ুন:








