মঙ্গলবার

১৮ আগস্ট, ২০২৬ ৩ ভাদ্র, ১৪৩৩

জুলাই যোদ্ধা মাহাদির গ্রেপ্তার ঘিরে এনসিপির নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন

নিউজ ডেস্ক বাংলা এডিশন

প্রকাশিত: ১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:৪৩

শেয়ার

জুলাই যোদ্ধা মাহাদির গ্রেপ্তার ঘিরে এনসিপির নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন
ছবি ভিডিও থেকে নেওয়া

জুলাই যোদ্ধা। যাদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে দেশের মানুষ আজ স্বাধীন বাংলার স্বাদ নিতে পারছে। যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে দীর্ঘ ১৭ বছরের জুলুম-নিপীড়নের শৃঙ্খল থেকে মুক্তির পথ তৈরি হয়েছে। সেই রক্তাক্ত জুলাইয়ের মিছিলে থাকা মানুষগুলোরই একজন হবিগঞ্জ জেলার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যসচিব মাহদী হাসান।

সেই মাহদীকেই পুলিশের গ্রেপ্তারের পর শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। যে তরুণ একদিন অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক পেতে দাঁড়িয়েছিলেন রাজপথে, সেই তরুণকে হঠাৎ কেনো আটক করতে হলো? তা নিয়েই প্রশ্ন অনেকের।

এনসিপি নেতৃবৃন্দের নীরবতা

জানা যায়, মাহদীকে আটকের পর চারদিকে ছেয়ে যায় নীরবতার এক অদৃশ্য মেঘ। যে নীরবতার ফাঁক গলে উঁকি দিচ্ছে, জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের, সাধারণ জুলাই যোদ্ধাদের প্রতি দায়িত্ববোধ নিয়ে নানা প্রশ্ন।

সমালোচনাকারীরা বলছে, জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মধ্য থেকে গুটি কয়েক নেতৃবৃন্দের ওপর কোথাও হামলা, মামলা কিংবা নিজেদের স্বার্থে আঘাত এলে নাহিদ-হাসনাতদের আন্দোলনে নেমে পড়তে দেখা গেলেও, জুলাই যোদ্ধা কিংবা জুলাইয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাধারণ মানুষদের ওপর সেই আঘাত এলে দেখা, যায় তার বিপরীত চিত্র। তাদের ওপর নেমে আসে এক অজানা নীরবতা।

ঠিক এমনই সমালোচনার তীক্ষ্ণ তীর উঠেছে মাহদীর গ্রেপ্তারের সময়ও। নাহিদ, হাসনাত, সারজিসসহ এনসিপির নেতৃবৃন্দের কাউকেই তেমন প্রতিক্রিয়া দেখাতে, দেখা যায়নি মাহদীর গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে।

ইলিয়াস হোসাইনের সমালোচনা

এ বিষয়ে, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও অনুসন্ধানী সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইনের একটি স্ট্যাটাসও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লক্ষ্য করা যায়। যেখানে তিনি মাহদীর মুক্তি দাবি করে, এনসিপি নেতৃবৃন্দের এ বিষয়ে অস্বাভাবিক নীরবতা নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন।

শুধু তাই নয়, জুলাইয়ের আহত যোদ্ধাদের একটি অংশও বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসা, সহায়তা ও পুনর্বাসন নিয়ে অসন্তোষের কথা জানিয়েছেন। এনসিপির বর্তমান সামনের সারির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নানা সময়ে অভিযোগ উঠেছে, তারা আহত জুলাই যোদ্ধাদের অনেকের প্রয়োজনের সময় কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসার বিষয়ে সোচ্চার ছিলেন না।

মুচলেকায় মুক্তি

অন্যদিকে, থানায় ২২ ঘণ্টা আটক থাকার পর মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) মুচলেকায় মুক্তি পেয়েছেন মাহদীসহ তার সহযোগী তিনজন। মাহাদি মুক্তি পেলেও, প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যায়, যে কণ্ঠগুলো নানা স্বার্থে রাজপথে উচ্চকিত হয়, সেই কণ্ঠগুলোই কেন সাধারণ জুলাই যোদ্ধা, আহত ও শহীদ পরিবারের বিপদের সময় থমকে যায়?



banner close
banner close