শনিবার (১৫ আগস্ট) ২৪শের পটপরিবর্তনের পর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের চিত্র ছিল একেবারেই ভিন্ন। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সম্ভাব্য জমায়েত ঠেকাতে, সকাল থেকেই সেখানে অবস্থান নেয় ছাত্র-জনতা। সতর্ক পাহারার মধ্যেই ঘটে যায় একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা।
সিঙ্গারা বিতরণকারী যুবকের উপস্থিতি
সেদিন, সকালবেলা ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের প্রবেশমুখে হাতে বস্তাভর্তি সিঙ্গারা নিয়ে হাজির হন এক যুবক। উপস্থিত জনতা ও গণমাধ্যমকর্মীদের তিনি জানান, মুজিবকে ভালোবাসেন বলেই নিজ উদ্যোগে তিনি অসহায় মানুষদের সিঙ্গারা খাওয়াতে এসেছেন।
মুখে তার জয় বাংলা স্লোগান। নিজেকে কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত নয় বলে দাবি করলেও, তার এই উপস্থিতি মুহূর্তেই উত্তাপ ছড়ায় সেখানে।
আয়াশের জেরা ও প্রতিহত
ঠিক সেই সময়েই ঘটনাস্থলে আসেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পরিচিত মুখ এবং জুলাই যোদ্ধা এ এন এম আয়াশ। তিনি ওই যুবককে জেরা করতে শুরু করেন। উত্তপ্ত, বাক্যবিনিময়ের একপর্যায়ে ওই যুবককে প্রতিহত করেন আয়াশ।
ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের নজরে আসে। সাংবাদিকরা আয়াশকে ঘিরে ধরেন এবং প্রশ্নবাণে জর্জরিত করেন, কেন তিনি আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছেন? কেন সাধারণ মানুষের গায়ে হাত তুলছেন?
সাংবাদিকদের এমন একের পর এক প্রশ্নে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন আয়াশ। তিনি সাংবাদিকদের আওয়ামী লীগের মিডিয়া আখ্যা দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
একপর্যায়ে সাংবাদিকদের তোপের মুখে এবং ভিড়ের চাপে আয়াশকে ওই স্থান ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা
এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় তুমুল সমালোচনা। অনেকেই আয়াশকে সাধারণ মানুষের ওপর হামলার জন্য দোষারোপ করতে থাকেন।
যুবকের আসল পরিচয় প্রকাশ
কিন্তু ঘটনার মোড় ঘোরে কয়েক ঘণ্টা পরেই। বেরিয়ে আসে সিঙ্গারা বিতরণকারী ওই যুবকের আসল পরিচয়। জানা যায়, তিনি কোনো সাধারণ পথচারী বা নিরীহ মানুষ নন। নেটিজেনরা তার পুরোনো কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সামনে নিয়ে আসেন। সেসব ভিডিওতে দেখা যায়, ওই যুবক আওয়ামী লীগকে আলাদা ধর্ম দাবি করে চরম বিতর্কিত মন্তব্য করছেন।
শুধু তাই নয়, আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে তার সুস্পষ্ট সম্পৃক্ততার প্রমাণও মেলে।
জুলাইয়ের ছাত্র-জনতাকে জঙ্গি আখ্যা দিয়ে নানা বিতর্কিত কথাবার্তাও বলেছেন তিনি।
নেটিজেনরা বলছে, এসবে প্রমাণ হয়, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই সেদিন এই যুবক ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে গিয়েছিলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে অস্থিতিশীলতা তৈরির জন্য।
আয়াশের বার্তা ও হুমকি
বিষয়টি পরিষ্কার হওয়ার পর, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি বার্তা দেন আয়াশ। তিনি বলেন, কিছু মানুষের ভুল ব্যাখ্যা ও পক্ষপাতের কারণে আজ বিপ্লবীরা হেরে যাচ্ছে। সত্যকে সত্য এবং মিথ্যাকে মিথ্যা বলার সময় এসেছে।
একইসাথে, সেদিনের ঘটনাস্থলে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়।
আয়াশ দাবি করেন, আওয়ামী লীগের মিডিয়া বাহিনী পূর্বপরিকল্পনা করেই সেদিন সেখানে জড়ো হয়েছিল।
এছাড়াও, নিজের বিরুদ্ধে চলা নানা অপপ্রচারের জবাব দিয়ে, পরিস্থিতি সুস্পষ্ট করেন আয়াশ।
অন্য এক ভিডিওবার্তায় তিনি জানান, বিভিন্ন নম্বর থেকে ক্রমাগত হুমকি আসছে তার কাছে। এতে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও প্রাণনাশের আশঙ্কায় রয়েছেন এই জুলাই যোদ্ধা।
বিশ্লেষকরা বলছে, ধানমন্ডি ৩২-এর এই সিঙ্গারা বিতরণের ঘটনাটি নিছক কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং এর পেছনে লুকিয়ে থাকা কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলের রাজনৈতিক উস্কানি, সোশ্যাল মিডিয়ায় আয়াশকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন এবং গণমাধ্যমের ভূমিকা, এই ঘটনায় জন্ম দিয়েছে নতুন বিতর্কের।
আরও পড়ুন:








