জীবনের সেরা ২৬টি বছর কেটেছে কারাগারের চার দেয়ালের মাঝে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও কারাভোগ শেষে অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন ভোলার কালু। সোমবার দুপুরে কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে নিজ এলাকায় ফিরলেও স্বজনদের হারানোর বেদনায় আনন্দের বদলে চোখে নেমে এসেছে অশ্রু। দীর্ঘ ২৬ বছরে একে একে মারা গেছেন তার দুই চাচা, ফুফু, মামাসহ প্রায় ১৫ জন নিকটাত্মীয়।
কালু ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক লতিফ মেম্বারের ছেলে। পারিবারিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তৎকালীন সময়ে স্থানীয় মিলন মেম্বার ও লতিফ মেম্বার গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ঘটনা ঘটে। ওই বিরোধের জেরে মিলন মেম্বারের ভাই দুলাল নিহত হন।
এ ঘটনায় মিলন মেম্বার বাদী হয়ে কালুকে প্রধান আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। এরপর থেকেই বন্দিজীবন হয়ে ওঠে তার ঠিকানা।
সোমবার দুপুরে কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফেরেন কালু। তবে ২৬ বছরের ব্যবধানে পরিচিত চারপাশ এখন অনেকটাই বদলে গেছে। কারাভোগের এই দীর্ঘ সময়ে একে একে হারিয়ে গেছেন তার দুই চাচা, ফুফু, মামাসহ প্রায় ১৫ জন নিকটাত্মীয়। যাদের স্মৃতি বুকে নিয়ে তিনি কারাগারে দিন গুনেছেন, মুক্তির পর তাদের কাউকেই আর কাছে পাননি।
কারাগারে যাওয়ার সময় যে স্ত্রীকে তরুণী অবস্থায় রেখে গিয়েছিলেন, ২৬ বছর পর ফিরে দেখেছেন তিনি এখন বৃদ্ধা। কোলজুড়ে রেখে যাওয়া শিশুকন্যাটিও এরই মধ্যে বড় হয়ে নিজেই সন্তানের মা হয়েছেন। এক সন্তানকে কোলে নিয়ে স্বামী কারাগারে থাকার সময়ে দীর্ঘ ২৬ বছর একাই জীবনসংগ্রাম চালিয়ে গেছেন তার স্ত্রী। সেই দীর্ঘ সংগ্রামের ছাপ এখন স্পষ্ট তার চেহারার বলিরেখায়।
মুক্তির পর আবেগাপ্লুত কালু বলেন, অপরাধ যাই হোক, জীবনের সব আলো কারাগারে শেষ হয়ে গেছে। আজ মুক্ত, কিন্তু আপন বলতে আর অনেকেই নেই। কাকে গিয়ে দেখব, সেই ঘর-ভিটাই তো খালি।
এককালের রক্তাক্ত রাজনৈতিক ও পারিবারিক বিরোধের জেরে একটি পরিবারের ২৬টি বছর কীভাবে নিভে যেতে পারে, কালুর এই করুণ প্রত্যাবর্তন যেন তারই এক জীবন্ত দলিল।
আরও পড়ুন:








