সোমবার

১৭ আগস্ট, ২০২৬ ২ ভাদ্র, ১৪৩৩

বৃষ্টির পানিতে ফের তলিয়ে চট্টগ্রাম, বাড়ছে জনদুর্ভোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১৬:৫৫

শেয়ার

বৃষ্টির পানিতে ফের তলিয়ে চট্টগ্রাম, বাড়ছে জনদুর্ভোগ
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম নগরে টানা বৃষ্টিতে আবারও বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলি পানিতে তলিয়ে গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের পর সোমবার সকাল থেকে নগরের হালিশহর, কাতালগঞ্জ, হামজারবাগ, মুরাদপুর, বিবিরহাট, চকবাজার, কাপাসগোলা, রিয়াজউদ্দিন বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে শিক্ষার্থী, অফিসগামী মানুষ, ব্যবসায়ী ও পথচারীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

চট্টগ্রাম পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সোমবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় ৮১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১৬৭ মিলিমিটার। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত রয়েছে।

নগরের বিভিন্ন এলাকায় কোথাও হাঁটুসমান, কোথাও তার চেয়েও বেশি পানি জমেছে। এতে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে প্রধান সড়কগুলোতে গণপরিবহনের সংখ্যাও কমে গেছে। সুযোগ নিয়ে রিকশা ও ছোট যানবাহনের চালকেরা কয়েক গুণ বেশি ভাড়া আদায় করছেন বলে অভিযোগ করেছেন নগরবাসী।

বিবিরহাট এলাকার বেসরকারি চাকরিজীবী মো. আশরাফুল আলম বলেন, ‘বাসার সামনে পানি। অফিস তো এসব বুঝবে না, অফিসে যেতে হবে। ২০ টাকার রিকশা ভাড়া এখন ৪০ টাকা দিয়ে এলাম। আমাদের ভোগান্তির শেষ নেই।’

হামজারবাগ এলাকায় গাড়ির অপেক্ষায় থাকা চাকরিজীবী আজগর আলী বলেন, গাড়ির সংখ্যা কম থাকায় যাত্রীরা হুড়োহুড়ি করে উঠছেন। এর সঙ্গে সড়কে পানি জমে থাকায় চলাচলে সমস্যা হচ্ছে।

এদিকে নিউমার্কেট এলাকার নুপুর মার্কেটেও জলাবদ্ধতার কারণে বিভিন্ন বইয়ের দোকানে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে বই ভিজে নষ্ট হয়েছে। দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকলে ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি ও পানি নিষ্কাশনে সিটি করপোরেশনের পদক্ষেপ জানতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সাড়া পাওয়া যায়নি।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও নির্বাহী প্রকৌশলী আহম্মদ মঈনুদ্দিন জানান, তিনি চট্টগ্রামের বাইরে রয়েছেন। প্রকল্পের সার্বিক পরিস্থিতি জানতে সেনাবাহিনীর প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন তিনি।

নগরবাসীর অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসনে নানা উদ্যোগ নেয়া হলেও কয়েক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতেই একই এলাকাগুলো পানিতে ডুবে যায়। তাদের দাবি, সাময়িকভাবে পানি সরানোর পাশাপাশি নগরের পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার সমন্বিত ও স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা যে শুধু সাময়িক পানি সরানোর সমস্যায় সীমাবদ্ধ নয়, তা স্পষ্ট হয়েছে; স্থায়ী সমাধানের জন্য সমন্বিত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনার মূল ঘাটতিগুলো চিহ্নিত করা জরুরি।



banner close
banner close