সোমবার

১৭ আগস্ট, ২০২৬ ২ ভাদ্র, ১৪৩৩

বাংলা এডিশনের অনুসন্ধান; সড়কে কোটি টাকার চাঁদাবাজি

নিউজ ডেস্ক বাংলা এডিশন

প্রকাশিত: ১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১৫:৪৮

শেয়ার

বাংলা এডিশনের অনুসন্ধান; সড়কে কোটি টাকার চাঁদাবাজি
ছবি সংগৃহীত

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কে চলছে প্রকাশ্য চাঁদাবাজির মহোৎসব। নগরীর চাষাঢ়া থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত সিএনজি ও অটোরিকশা থেকে তথাকথিত লাইন মেইনটেন্যান্সের নামে প্রতিদিন তোলা হচ্ছে বিপুল অঙ্কের চাঁদা।

বাংলা এডিশন টিমের অনুসন্ধানেও ধরা পড়ে সেই চিত্র। সাইনবোর্ড মোড়ে সারি বেঁধে রাখা সিএনজি থেকে ৩০ টাকা ও অটোরিকশা থেকে ১০ টাকা করে তুলছেন আলম নামের এক ব্যক্তি। চাঁদা আদায় শেষে গাড়ির গ্লাসে দেয়া হচ্ছে বিশেষ মার্কিং। চালকদের দাবি, লাইন নিয়ন্ত্রণের নামে ৮-১০ জনের একটি চক্র এই চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।

তবে ক্যামেরার সামনে চাঁদাবাজির কথা অস্বীকার করে অভিযুক্তরা। আলম ও রাকিবসহ চাঁদা তোলার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সাফাই, তারা সিএনজি থেকে নয়, কেবল অটোরিকশা থেকে ১০ টাকা নেয় নিজেদের রুটি-রুজির জন্য।

অথচ অনুসন্ধানের তথ্য বলছে ভিন্ন কথা। এই সড়কে চলাচলকারী প্রায় তিনশ সিএনজি এবং চারশ অটোরিকশা থেকে চাষাঢ়া ও সাইনবোর্ড দুই প্রান্তেই চাঁদা নেয়া হয়। সবমিলিয়ে প্রতিদিন অন্তত ২৫ হাজার টাকা ওঠে এই খাত থেকে। যার মাসিক অঙ্ক প্রায় ৮ লাখ, আর বছরে তা গিয়ে দাঁড়ায় এক কোটি টাকার ওপরে। কোনো বৈধ ইজারা ছাড়াই বছরের পর বছর ধরে চলছে এই লুটপাট।

প্রকাশ্যেই চলছে চাঁদাবাজির এমন মহোৎসব। অথচ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, পুরো বিষয়টি সম্পর্কেই তারা অবগত নয়। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তা।

সোহেল রানা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ট্রাফিক, নারায়ণগঞ্জ বাংলা এডিশনকে জানিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

লাইন মেইনটেন্যান্সের অজুহাতে মহাসড়কে এই প্রকাশ্য চাঁদাবাজি নতুন কিছু নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারির বাইরে প্রতিদিন কোটি টাকার এমন পকেটকাটা কেবল সাধারণ চালকদেরই দিশেহারা করছে না, প্রশ্ন তুলছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও। অবৈধ এই সিন্ডিকেট ভেঙে সড়ক চাঁদাবাজিমুক্ত করতে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেয়াই এখন সময়ের দাবি।



banner close
banner close