রবিবার

১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১ ভাদ্র, ১৪৩৩

বাঁশখালীতে চুরির হিড়িক, ঋণের টাকায় কেনা রিকশা হারিয়ে নিঃস্ব শাহেদ

শিব্বির আহমদ রানা, বাঁশখালী প্রতিনিধি (চট্টগ্রাম)

প্রকাশিত: ১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১৬:৩৪

শেয়ার

বাঁশখালীতে চুরির হিড়িক, ঋণের টাকায় কেনা রিকশা হারিয়ে নিঃস্ব শাহেদ
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বাড়ির সামনে থেকে মিশুক অটোরিকশা চুরির ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের মধ্যম ইলশা গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হারী মহুরীর বাড়ির সামনে থেকে রবিবার ভোররাতে অটোরিকশাটি চুরি হয়। চুরি যাওয়া গাড়িটির আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

ভুক্তভোগী অটোরিকশাচালক মো. শাহেদ এ ঘটনায় বাঁশখালী থানায় অজ্ঞাতনামা চোর বা চোরদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। শাহেদ মধ্যম ইলশা গ্রামের মো. মামুনুর রশিদের ছেলে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে শাহেদ তার লাল-সাদা রঙের মিশুক অটোরিকশাটি বাড়ির সামনে চার্জে রেখে ঘরে ঘুমাতে যান। শনিবার ভোর আনুমানিক ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে তার সমন্ধি গাড়িটি দেখতে না পেয়ে তাকে বিষয়টি জানান। পরে বাড়ির সামনে গিয়ে অটোরিকশাটি না পেয়ে চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হন শাহেদ।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, রাত আনুমানিক ৩টা থেকে ভোর ৫টার মধ্যে কোনো একসময় অজ্ঞাতনামা চোর বা চোরেরা বাড়ির সামনে থেকে অটোরিকশাটি নিয়ে যায়। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় অভিযোগ করতে কিছুটা বিলম্ব হয় বলেও জানান তিনি।

রিকশা চালক শাহেদ বলেন, 'পাঁচ সদস্যের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আমি। অটোরিকশা চালিয়েই সংসার চলে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে দুটি এনজিও সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়ে গাড়িটি কিনেছিলাম। গাড়িটিই ছিল পরিবারের জীবিকার প্রধান অবলম্বন। এখন সেটি চুরি হয়ে যাওয়ায় কীভাবে সংসার চালাব, বুঝতে পারছি না।'

স্থানীয় বাসিন্দা মোরশেদ বলেন, বাহারছড়া ইউনিয়নের মধ্যম ইলশা গ্রামে আগে চুরির ঘটনা এতটা নিয়মিতভাবে দেখা যায়নি। কয়েকদিনের ব্যবধানে গরু ও অটোরিকশা চুরির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। তিনি বলেন, 'এভাবে চুরি চলতে থাকলে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ কোথায় দাঁড়াবে? প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচিত ঘটনাগুলো গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে দ্রুত জড়িতদের আইনের আওতায় আনা।'

স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁশখালীজুড়ে চলমান বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে চোরচক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায়ই গরু, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন মালামাল চুরির ঘটনা ঘটছে। এতে প্রান্তিক কৃষক, খামারি ও সাধারণ যানবাহন চালকদের মধ্যে চোর আতঙ্ক বাড়ছে। চুরির সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা না হলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

বাঁশখালী থানার ওসি (তদন্ত) শুধাংশু শেখর হালদার বলেন, 'চুরি প্রতিরোধে বাঁশখালী থানা পুলিশের নিয়মিত টহল ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। এরপরও চোরচক্র বিভিন্ন কৌশলে চুরির ঘটনা ঘটাচ্ছে। অপরাধ প্রতিরোধে স্থানীয়দের সম্পৃক্ত করে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে। অটোরিকশা চুরির ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।'

অভিযোগ দায়েরের পর চুরি যাওয়া অটোরিকশাটি দ্রুত উদ্ধার এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শাহেদ ও স্থানীয়রা।



banner close
banner close