শনিবার

১৫ আগস্ট, ২০২৬ ৩১ শ্রাবণ, ১৪৩৩

বিদ্যুৎ সংকটে বিপাকে মাধবপুরের পোল্ট্রি খামারিরা

শেখ বেলাল, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:

প্রকাশিত: ১৫ আগস্ট, ২০২৬ ২১:৫৫

শেয়ার

বিদ্যুৎ সংকটে বিপাকে মাধবপুরের পোল্ট্রি খামারিরা
ছবি বাংলা এডিশন

প্রচণ্ড গরমে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে বিপাকে পড়েছেন হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার পোল্ট্রি খামারিরা। বিদ্যুৎ চলে গেলেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে খামারের ফ্যান, পানির পাম্প ও কুলিং ব্যবস্থা। এতে অতিরিক্ত গরমে মুরগি হাঁপিয়ে ওঠার পাশাপাশি ঘটছে মৃত্যুও। উৎপাদন কমার সঙ্গে বাড়ছে জেনারেটরের জ্বালানি খরচ, ফলে কমে যাচ্ছে খামারিদের লাভ।

খামারিদের অভিযোগ, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দিনে-রাতে মিলিয়ে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় খামারের ভেতরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। মুরগিগুলো অস্থির হয়ে হাঁপাতে থাকে এবং পানি সরবরাহও ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেক খামারিকে বাধ্য হয়ে জেনারেটর চালাতে হচ্ছে।

পরমানন্দপুর গ্রামের খামারি আশফাক হক বলেন, তার খামারে প্রায় ৩ হাজার ব্রয়লার মুরগি রয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকলে প্রচণ্ড গরমে মুরগিগুলো হাঁপিয়ে ওঠে। কয়েকটি মুরগি মারাও গেছে। জেনারেটর চালিয়ে খামার সচল রাখতে গিয়ে বাড়ছে খরচ।

নোয়াপাড়া ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামের খামারি মিনহাজুল ইসলাম জানান, বিদ্যুৎ চলে গেলে ফ্যান ও পানির ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়। গরমের মধ্যে মুরগি সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। জেনারেটর চালাতে গিয়ে বাড়তি খরচ হচ্ছে।

ছাতিয়াইন ইউনিয়নের খামারি ফেরদৌস মিয়ার আশঙ্কা, বিদ্যুৎ বিভ্রাট অব্যাহত থাকলে অনেক ছোট ও মাঝারি খামারি লোকসানে পড়ে ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হতে পারেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মাধবপুরের ১১টি ইউনিয়নে ২৫০টির বেশি পোল্ট্রি খামার রয়েছে। এসব খামারে মুরগির উপযুক্ত তাপমাত্রা বজায় রাখতে ফ্যান, কুলিং ব্যবস্থা ও পানি সরবরাহের জন্য বৈদ্যুতিক পাম্পের ওপর নির্ভর করতে হয়। ফলে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে খামারের উৎপাদন ও মুরগির স্বাস্থ্য।

মাধবপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মিঠুন সরকার বলেন, উপজেলায় ২৫০টির বেশি পোল্ট্রি খামার রয়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে খামারিরা সমস্যায় পড়ছেন। বিশেষ করে গরমের সময়ে দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকলে মুরগির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে।

মাধবপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম (অপারেশন) ইউসুফ আলী বলেন, জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ কম পাওয়ায় নির্দিষ্ট সময় লোড ম্যানেজমেন্ট করতে হচ্ছে। পাশাপাশি কিছু এলাকায় রক্ষণাবেক্ষণ কাজও চলছে। পরিস্থিতির উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।

খামারিদের ভাষ্য, মুরগি বিক্রির আগ পর্যন্ত তাদের খাবার, ওষুধ ও পরিচর্যায় বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়। শেষ সময়ে এসে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে মুরগি মারা গেলে সেই ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা কঠিন। তাই বিদ্যুৎ সংকট শুধু খামারের উৎপাদন নয়, তাদের বিনিয়োগ ও পরিবারের আয়-রোজগারকেও ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

খামারিদের দাবি, গরমের এই সময়ে পোল্ট্রি খামারগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে লোকসানে পড়ে বন্ধ হয়ে যেতে পারে অনেক ছোট ও মাঝারি পোল্ট্রি খামার।



banner close
banner close