কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরে জুমার নামাজ শেষে বের হওয়ার সময় সশস্ত্র রোহিঙ্গাদের গুলিতে এক বাংলাদেশি যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন।
শুক্রবার দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে পালংখালী ইউনিয়নের ১৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি-২ ব্লকে মসজিদে সুন্নাহর সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আহত যুবকের নাম ওবাইদুল হক লালু। তিনি পালংখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চোরখোলা এলাকার আবুল হোসেন ওরফে ভুলুর ছেলে। পেশায় তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ী।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, জুমার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় লালুর সঙ্গে কয়েকজন রোহিঙ্গার বাগবিতণ্ডা হয়। স্থানীয়দের দাবি, জমি নিয়ে বিরোধ, বকেয়া টাকা-পয়সার লেনদেন ও পূর্বশত্রুতার জেরে এ বিরোধের সূত্রপাত। একপর্যায়ে অস্ত্রধারীরা লালুকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে তার ডান পায়ের গোড়ালিতে গুলি লাগে। এ সময় কয়েক দফা গুলির শব্দ শোনা যায়।
গুলিবিদ্ধ লালুকে প্রথমে কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার মা সাইরা খাতুন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনার পর অস্ত্রধারীরা ক্যাম্পের কাঁটাতারসংলগ্ন এলাকা দিয়ে বাংলাদেশি বসতিপূর্ণ এলাকায় ঢুকে পড়ার চেষ্টা করে। এতে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আহতের বড় ভাই জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমার ভাই মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় হঠাৎ তাকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার চাই।’
স্থানীয় বাসিন্দা মরিয়ম বেগম ও সিরাজ মিয়া বলেন, গুলির শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে আসায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
উখিয়া থানার উপপরিদর্শক এসআই আরমান আজাদ বলেন, ১৪ নম্বর ক্যাম্পের কাঁটাতারের পাশে একটি মসজিদের সামনে স্থানীয় এক বাংলাদেশি দোকানদারকে সশস্ত্র রোহিঙ্গারা গুলি করেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন, অস্ত্র উদ্ধার ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশি কার্যক্রম চলছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, “ঘটনার পর ক্যাম্পের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পালংখালী ইউপি চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “ক্যাম্পের ভেতরে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার উদ্বেগজনক। রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে অবৈধ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরও কঠোর অভিযান প্রয়োজন।
ঘটনার পর কাঁটাতারসংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ক্যাম্পের ভেতর থেকে অস্ত্র নিয়ে বাংলাদেশি বসতিপূর্ণ এলাকায় প্রবেশের অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন:








