গাজীপুরের গাছায় বন্ধ হয়ে যাওয়া ইউনিক ডিজাইনার্স লিমিটেড ও ইউনিক ওয়াশিং অ্যান্ড ডাইং লিমিটেডের শ্রমিকদের বকেয়া বেতন-ভাতা, নোটিশ পে, সার্ভিস বেনিফিটসহ আইনানুগ পাওনা পরিশোধের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে গাছা এলাকায় ইউনিক ডিজাইনার্সের সম্মিলিত গার্মেন্টস কর্মচারী-শ্রমিকদের উদ্যোগে কারখানার প্রধান ফটকের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে শ্রমিকরা বলেন, দীর্ঘদিন কারখানায় কাজ করার পর হঠাৎ প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে অনেক শ্রমিকের বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন আইনানুগ পাওনা এখনো পরিশোধ করা হয়নি। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের।
শ্রমিকরা দ্রুত বকেয়া বেতন-ভাতা, নোটিশ পে, সার্ভিস বেনিফিটসহ সব ধরনের আইনানুগ পাওনা পরিশোধের দাবি জানান। পাশাপাশি মালিকপক্ষের দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আগামী ২০ আগস্টের মধ্যে পাওনা পরিশোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
মানববন্ধনে শ্রমিক নেতা মো. মাজহারুল ইসলাম, আব্দুর রহমান, রবিন হোসেন, শ্রমিক শক্তির যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ রায়হান, কুলসুম, মাহমুদা, রানা, রাকিব, রিপন, সুমন, নাহিদ, ওয়াসিম, স্বপ্নাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শ্রমিকরা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে গাজীপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ জানায়, বিষয়টি তাদের অবগত রয়েছে। শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধের জন্য মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
কারখানা অধিদপ্তর টঙ্গীর সহকারী ডিআইজি মো. বাধন জানান, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে গত মাসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মালিকপক্ষ এক মাসের সময় নিয়েছে। তারা জানিয়েছে, আগামী ২০ আগস্টের মধ্যে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও বোনাস পরিশোধ করা হবে।
তবে এ বিষয়ে ইউনিক ডিজাইনের মালিক মো. ফরিদ আহমেদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শ্রমিকরা জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাওনা পরিশোধ না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।
উল্লেখ্য, গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকায় অবস্থিত ইউনিক ডিজাইনার্স লিমিটেড ও ইউনিক ওয়াশিং অ্যান্ড ডাইং লিমিটেড স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হলে প্রতিষ্ঠান দুটির প্রায় ১ হাজার ৮০০ শ্রমিক-কর্মচারী কর্মহীন হয়ে পড়েন। কারখানা বন্ধের পর থেকে পাওনা পরিশোধের দাবিতে শ্রমিকরা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন।
আরও পড়ুন:








