সীমান্তে এখন আর একতরফা আগ্রাসনের দিন নেই। এক বাংলাদেশিকে ধরে নিয়ে গেলে, পাল্টা ভারতীয় নাগরিককে আটকে রাখছে সাধারণ জনতা। সাম্প্রতিক সময়ে পঞ্চগড় ও মেহেরপুর সীমান্তে এমনই নজিরবিহীন সাহসিকতা ও প্রতিরোধের সাক্ষী হয়েছে দেশ।
পঞ্চগড় সীমান্তে পাল্টা আটক
বুধবার (৫ আগস্ট) পঞ্চগড় সদর উপজেলার সাতমেরা সীমান্তে ৭৮ বছর বয়সী বাংলাদেশি বৃদ্ধ মো. তমিজ উদ্দীন, গরু খুঁজতে কাঁটাতারের কাছাকাছি চলে গেলে, তাকে ধরে নিয়ে যায় ভারতীয় বাহিনী বিএসএফ। তবে, এবার আর শুধু চিঠির প্রতিবাদে সীমাবদ্ধ থাকেনি বাংলাদেশ। শনিবার (৮ আগস্ট), সকালে দীপঙ্কর গোপ নামের এক ভারতীয় নাগরিক ওই কাঁটাতার পেরিয়েই, বাংলাদেশ অংশে প্রবেশ করলে, স্থানীয় জনতা তাকে তাৎক্ষণিক আটকে ফেলে।
মেহেরপুর সীমান্তেও একই চিত্র
একই রকম সাহসিকতার চিত্র দেখা গেছে মেহেরপুর সদর উপজেলার ইছাখালী সীমান্তে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট), সকালে ৭০ বছর বয়সী বাংলাদেশি কৃষক আবদুল মান্নানকে ধরে নিয়ে যায় বিএসএফ। এর প্রতিবাদেও গর্জে ওঠে সীমান্ত এলাকার মানুষ। তাৎক্ষণিক বাংলাদেশ সীমান্তে অবস্থানরত দুই ভারতীয় নাগরিককে আটক করে স্থানীয় বাসিন্দারা।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে এবং জনতার এমন সাহসী পদক্ষেপের পর টনক নড়ে ওপারে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পতাকা বৈঠক করতে বাধ্য হয় বিএসএফ। বিজিবি কর্মকর্তাদের পেশাদার ও শক্ত অবস্থানের কারণে, উভয় সীমান্তেই বৈঠক শেষে আটককৃতদের নিজ নিজ দেশের বাহিনীর হাতে তুলে দেয়া হয়।
সীমান্ত সমীকরণে পরিবর্তন
১৭ বছরের নতজানু পররাষ্ট্রনীতি আর সীমান্তে দুর্বল অবস্থানের দিন এখন যেন অতীত। ২৪ এর আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের সমীকরণ একেবারে পরিষ্কার, ইট মারলে পাটকেল খেতে হয়, এক গুলি ছুঁড়লে জবাব আসে দশ গুলিতে। বিজিবি এখন আর আগের মতো নীরব বা নতজানু নয়। ওপার থেকে গুলি চললে, এপার থেকেও যেন গর্জে ওঠে বিজিবির রাইফেল।
ভারত সরকার বা বিএসএফ সীমান্তে 'পুশ-ইন' এর মতো অপচেষ্টা চালিয়ে যে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে চাইছে, তা রুখে দিতে কাঁটাতারের এপারে আজ তৈরি হয়েছে এক অভূতপূর্ব ঐক্য। বিজিবির সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাত জেগে সীমান্ত পাহারা দিচ্ছে সাধারণ জনতা।
সাধারণ মানুষ আর সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এই সম্মিলিত প্রতিরোধ আজ বিশ্বকে জানান দিচ্ছে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এখন আর এক বিন্দুও ছাড় দেবে না এই নতুন বাংলাদেশ।
আরও পড়ুন:








