জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার কৃষ্টপুর মৌজার ১২.৬৫ একর জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধে আদালতের রায় উপেক্ষা ও হয়রানির অভিযোগ তুলেছে বিবাদীপক্ষ। বুধবার দুপুর ১২টায় কালাই প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে মোহসীন আলী এ অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, ১৯৩২ সালে তৎকালীন জমিদার কালীকেশ চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কাছ থেকে আব্দুল মজিদ ফকির ও মারফত জামান ফকির ওই জমি পত্তন নেন। এরপর থেকে তারা খাজনা পরিশোধ করে জমিটি ভোগদখল করে আসছেন এবং তাদের নামে এমআরআর খতিয়ান প্রস্তুত হয়।
জমি নিয়ে ১৯৬৬-৬৭ সালে আরডিসি আদালতে এবং ১৯৯৪ সালে জয়পুরহাট সাব-জজ আদালতে মামলা হয়। উভয় মামলাই বিবাদীপক্ষের অনুকূলে নিষ্পত্তি হয় বলে দাবি করা হয়। পরবর্তীতে জেলা জজ আদালতে আপিলে আংশিক ডিক্রি দেয়া হয়। এতে ৪৩৩ ও ৫১০ নম্বর প্লটের নির্দিষ্ট অংশে স্থানীয় জনগণের ‘প্রথাগত সহজাধিকার’, কবরস্থান ও ঈদগাহ ব্যবহারের বিষয়টি স্বীকৃতি দেয়া হয় এবং অবশিষ্ট জমিতে বিবাদীপক্ষের মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয় বলে তারা জানান।
পরবর্তীতে বাদীপক্ষ হাইকোর্টে সিভিল রিভিশন করলে আদালত জেলা জজের রায় বহাল রাখেন। এরপর আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল দায়ের করা হয়। বর্তমানে বিষয়টি আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
বিবাদীপক্ষের দাবি, ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল আদালত সম্পত্তির ওপর ‘স্ট্যাটাস কো’ বা স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দিলেও আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে প্রতিপক্ষ খলিলুর রহমানের ছেলে হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে জমিতে প্রবেশ ও দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দলিল ও আদালতের রায় যাচাই করে দীর্ঘদিনের বিরোধের সুষ্ঠু ও স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে মোহসীন আলী ছাড়াও শাহ আলম, মতিউর রহমান, মোশাররফ হোসেন ও মোত্তালেব ফকির উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন:








