নেত্রকোনার কলমাকান্দায় পৃথক ঘটনায় পানিতে ডুবে এক বছর ও ১৮ মাস বয়সী দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
আজ বুধবার দুপুরে উপজেলার রংছাতী ও পোগলা ইউনিয়নে এ দুটি ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে উপজেলার রংছাতী ইউনিয়নের কালাইকান্দি গ্রামে বাড়ির পাশের পুকুরের পানিতে ডুবে মুয়াজ নামে এক বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়। পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক হাসিবুল হাসান তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মুয়াজ কালাইকান্দি গ্রামের রাজিব মিয়ার একমাত্র ছেলে।
অন্যদিকে, একই উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের শুনই গ্রামে বাড়ির চারপাশে জমে থাকা বর্ষার পানিতে ডুবে তাসকিন তারেক নামে ১৮ মাস বয়সী আরেক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সে ওই গ্রামের টিটু মণ্ডলের ছেলে। দুটি ঘটনার বিষয়ে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক হাসিবুল হাসান বলেন, হাসপাতালে আনার পর মুয়াজকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে।
কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান দুটি শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের সদস্যদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে নেত্রকোণার পূর্বধলায় পুকুরের পানিতে ডুবে আব্দুল আলিম (সাড়ে নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার ধলামূলগাঁও ইউনিয়নের জামুদ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুল আলিম ওই গ্রামের সুমন মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে খাবার খেয়ে আব্দুল আলিম বাড়ির উঠানে সমবয়সী শিশুদের সঙ্গে খেলছিল। এ সময় তার বাবা জমিতে চাষের কাজে চলে যান। পরে তার মা প্রতিবেশীর বাড়িতে হাঁসের খাবার আনতে গেলে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে বাড়ির সামনে থাকা নিজ পুকুরে পড়ে যায় শিশুটি।
এ সময় শিশুটির সঙ্গে খেলতে থাকা তার চাচাতো ভাই মোস্তাকিম তাকে পুকুরে পড়ে সাঁতার কাটতে দেখে। তবে বয়স কম হওয়ায় সে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে বুঝতে পারেনি। পরে শিশুটিকে না পেয়ে পরিবারের লোকজন ও প্রতিবেশীরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে মোস্তাকিম বিষয়টি জানালে পুকুরে খোঁজ শুরু হয়। পরে শিশুটির দূরসম্পর্কের নানা বাবুল মিয়া পুকুরের পানিতে তার মরদেহের সন্ধান পান।
পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:








