দীর্ঘদিন ব্যবহার না করায় নষ্ট হচ্ছে হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি। পাশাপাশি রয়েছে চিকিৎসক, নার্স ও কারিগরি জনবলের তীব্র সংকট। ফলে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার লাখো মানুষ। ৩১ শয্যার হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও বাড়েনি প্রয়োজনীয় জনবল ও সেবার পরিধি। এতে দিন দিন বাড়ছে রোগীদের দুর্ভোগ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সময়মতো চিকিৎসক পাওয়া যায় না। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগও সীমিত। ফলে অনেক রোগীকেই বাধ্য হয়ে জেলা সদর হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। এতে বাড়ছে সময়, খরচ ও ভোগান্তি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাসপাতালটিতে ১৯টি অনুমোদিত চিকিৎসক পদের বিপরীতে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ কর্মরত আছেন মাত্র ৮ জন। ২৫টি সিনিয়র স্টাফ নার্স পদের বিপরীতে রয়েছেন ৯ জন। এছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।
হাসপাতালে এক্স-রে মেশিন থাকলেও টেকনিশিয়ানের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে তা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। গাইনি চিকিৎসক থাকলেও অ্যানেসথেসিওলজিস্টের অভাবে বছরের পর বছর বন্ধ সিজারিয়ান অপারেশন। নবজাতকের চিকিৎসা, ফার্মেসি ও আল্ট্রাসনোগ্রাফি সেবাতেও রয়েছে ঘাটতি। এমনকি রাতের নিরাপত্তার জন্য নেই নৈশপ্রহরী।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসকের অপেক্ষায় দীর্ঘ সময় থাকতে হয়। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার অনেকগুলোই বাইরে থেকে করাতে হয়। পাশাপাশি হাসপাতালের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিয়েও রয়েছে ক্ষোভ।
এ বিষয়ে আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইকবাল হোসেন জানান, জনবল সংকট, অপারেশন থিয়েটারের নষ্ট যন্ত্রপাতিসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার চেষ্টা চলছে।
তবে স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত জনবল নিয়োগ, নষ্ট যন্ত্রপাতি সচল এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা করা না হলে ৫০ শয্যায় উন্নীত এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সুফল পাওয়া কঠিন হবে। তাই দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ চান তারা।
আরও পড়ুন:








