বুধবার

১২ আগস্ট, ২০২৬ ২৮ শ্রাবণ, ১৪৩৩

কুষ্টিয়ায় নকল সিগারেট কারখানায় অভিযান, দুই কোটি টাকার নকল সিগারেট জব্দ

রাজু আহমেদ, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১২ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:০০

শেয়ার

কুষ্টিয়ায় নকল সিগারেট কারখানায় অভিযান, দুই কোটি টাকার নকল সিগারেট জব্দ
ছবি: সংগৃহীত

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে অবৈধভাবে নকল সিগারেট তৈরির কারখানায় অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে প্রায় সাড়ে ২৫ লাখ শলাকা নকল সিগারেট এবং দুই হাজার ১০০ কেজি নকল সিগারেট তৈরীর তামাক জব্দ করা হয়।

বুধবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত উপজেলার সদর ইউনিয়নের গড়বাড়িয়া গ্রামের হাবিব মাস্টারের গরুর ফার্মে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের যৌথ অভিযানে গরুর ফার্মের ভেতরে গড়ে তোলা অবৈধ সিগারেট তৈরির কারখানাটির সন্ধান পাওয়া যায়। জব্দ করা সিগারেটের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি ৪ লক্ষ ১৪ হাজার টাকা। এসময় সিগারেট তৈরির বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল ও বিভিন্ন সরঞ্জামও জব্দ করা হয়।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রদীপ কুমার দাস বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বিভিন্ন নামি দামী ব্র্যান্ডের প্রায় সাড়ে ২৫ লাখ শলাকা নকল সিগারেটসহ উৎপাদনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা সিগারেটের আনুমানিক মূল্য ২ কোটি ৪ লক্ষ ১৪ হাজার টাকা।

তিনি জানান, অভিযান চলাকালে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। জব্দ করা অবৈধ মালামাল পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দৌলতপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

গরুর ফার্মের মালিক হাবিব মাস্টার জানান, তিনি জয়রামপুর এলাকার শাকিল ও বৈদ্যনাথতলা এলাকার লিওন হোসেন নামের দুই ব্যক্তির কাছে মাসিক ৪০ হাজার টাকা ভাড়ায় গরুর ফার্মটি ভাড়া দিয়েছিলেন। সেখানে নকল সিগারেট তৈরির কার্যক্রম চলছিল এ বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না বলে দাবি করেন।

তিনি আরও জানান, এর আগেও র‌্যাব ও কাস্টমসের অভিযানে কারখানাটি সিলগালা করা হয়েছিল। পরে সেটি আবার চালু করা হয়। তার ভাষ্য, প্রশাসন যেখানে কারখানাটি বন্ধ করার পরও আদালতের মাধ্যমে পুনরায় চালু হয়েছে, সেখানে ব্যক্তিগতভাবে তার পক্ষে কারখানাটি বন্ধ করার ক্ষমতা ছিল না।

এর আগে গত ৯ মে র‌্যাব-১২ কুষ্টিয়া ও কাস্টমস বিভাগের যৌথ অভিযানে একই কারখানায় অভিযান চালানো হয়। ওই অভিযানে পাঁচটি নকল সিগারেট তৈরির মেশিন এবং প্রায় ১ লাখ শলাকা নকল সিগারেট জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে কারখানাটি সিলগালা করে দেয়া হয়েছিল। তবে কিছুদিনের মধ্যেই কারখানাটি পুনরায় চালু করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রদীপ কুমার দাস বলেন, আগের অভিযানের পর কারখানাটি সিলগালা করা হলেও পরবর্তীতে মালিকপক্ষ আদালতে মামলা করে সেটি পুনরায় চালু করেছে।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নকল সিগারেট ও সিগারেট তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।



banner close
banner close