নওগাঁর পোরশা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সরকারি ওয়েবসাইটে এখনো শেখ হাসিনার ছবি বহাল রয়েছে।
গত ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পেরিয়ে গেলেও ওয়েবসাইটটি হালনাগাদ না করায় প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্বশীলদের ভূমিকা নিয়ে। অভিযোগ রয়েছে, পোরশা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের জাতীয় তথ্য বাতায়নের কভারফটোতে এখনো শেখ হাসিনার জনসমাবেশের একটি হাস্যোজ্জ্বল ছবি দৃশ্যমান। আওয়ামী লীগ আমলের বিভিন্ন ছবি ও তথ্য দেখা যাচ্ছে। কোথাও রয়েছে শোক দিবস, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ডিজিটাল শিক্ষা ভবন লেখা, বঙ্গবন্ধু কর্নারসহ পুরোনো বিভিন্ন কার্যক্রমের ছবি ও তথ্য।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পোরশা একাডেমির সুপারভাইজার কনক চন্দ্র রায় বর্তমানে শিক্ষা অফিসে একাই অফিসের বিভিন্ন কার্যক্রম দেখভাল করেন। ওয়েবসাইটে তথ্য ও ছবি হালনাগাদ রাখার বিষয়টিও তার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে শেখ হাসিনার ছবি বহাল থাকার ঘটনায় তার দায়িত্বশীলতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
তিনি গত ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ সালে একাডেমিক সুপারভাইজার হিসেবে যোগদান করেন। দীর্ঘদিন একই স্থানে থাকার ফলে দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ ও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়াও আওয়ামী আমলে প্রতিটি পোগ্রামের ছবিও দিয়ে রেখেছেন ওয়েবসাইটে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পোরশা একাডেমির সুপারভাইজার কনক চন্দ্র রায় বলেন, “মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আমাকে বললে ব্যবস্থা করবো।” শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছিল কি না এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, “শিক্ষা অফিসার ব্যবস্থা নিলে নিক, না নিলে না নিবে।”
পোরশা উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা জাকারিয়া বলেন, “মৌখিকভাবে একাধিকবার বলা হয়েছে। অনেকে গুরুত্ব দেয় না।”
তবে এ বিষয়ে পোরশা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শামসুল কবীর বলেন, “পুরাতন ছবি উঠিয়ে ফেলার জন্য কোনো নির্দেশনা আমরা পাইনি।”
তবে প্রশ্ন উঠেছে, সরকারি ওয়েবসাইট হালনাগাদের জন্য আলাদা নির্দেশনার অপেক্ষায় থাকতে হবে কি না। কারণ জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও সরকারি দপ্তরের ওয়েবসাইটে বর্তমান তথ্য, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিচয় এবং দাপ্তরিক কার্যক্রম সঠিকভাবে উপস্থাপন করা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নিয়মিত দায়িত্বের অংশ। সচেতন মহলের দাবি, সরকারি দপ্তরের জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও ওয়েবসাইট নিয়মিত হালনাগাদ করা জরুরি। বিশেষ করে পোরশা উপজেলার সরকারি দপ্তরগুলোর ওয়েবসাইটে থাকা পুরোনো ছবি ও তথ্য সরিয়ে বর্তমান কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নাম, পদবি, দাপ্তরিক তথ্য এবং সময়োপযোগী কার্যক্রম দ্রুত সংযুক্ত করা উচিত।
আরও পড়ুন:








