সম্প্রতি সৌদি আরবে, একটি কারখানায় আগুনে পুড়ে মারা গেছেন ১৭ জন বাংলাদেশি। ১৭ জন প্রবাসীর মৃত্যু যেন, ১৭টি পরিবারের স্বপ্নের মৃত্যু। এসব পরিবারের উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া। কিন্তু প্রশ্ন হলো এই ১৭ জনের মৃত্যু কি শুধু ১৭টি পরিবারের শোক? নাকি এটি রাষ্ট্রেরও শোক হওয়ার কথা?
রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা না করায় সমালোচনা
এমন প্রশ্ন উঠেছে কারণ, ১৭ জনের মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো উদ্যোগ বা শোক প্রকাশ না করায়, অনেকেই সমালোচনা করছে বিষয়টির। তাদের মতে, যে প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি, তাদের এমন করুণ মৃত্যুতে রাষ্ট্র কেন যথাযথ মর্যাদা দিতে বারবারই ব্যর্থ হয়?
বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়েছেন, অ্যাক্টিভিস্ট ও অনুসন্ধানী সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইন। পোস্টে তিনি লেখেন, ১৭ জন প্রবাসী মারা গেলেও, একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক দেয়া যায় না! এই দেশের মালিক এলিটরা, মধ্যবিত্ত আর নিন্মবিত্তদের মর্যাদা নেয়, এমন ইঙ্গিতও ছিলো তার লেখায়।
রাষ্ট্রীয় শোক শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়। এটি একটি বার্তা। এটি বলে দেয় রাষ্ট্র তার নাগরিকের জীবন ও মৃত্যুকে গুরুত্ব দেয়। ফলে, সেটি না হওয়ায় আলোচনা-সমালোচনা চলছে চারদিকে।
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক
অন্যদিকে, প্রবাসীদের করুণ মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা না হলেও, বিভিন্ন সময়ে রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সম্বন্ধে দায়িত্বরতদের বেফাঁস মন্তব্য করতে দেখা যায়। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের আলোচনায়, বর্তমান সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর দাবি করেন প্রবাসী যারা বিভিন্ন দেশে যায়, তারা কাজের ক্ষেত্রে ফাকি দেয়। তার এই বক্তব্য নিয়ে সেসময়ে তৈরি হয় বিতর্ক।
বিদেশে যাওয়ার আগে, একজন কর্মী যেন নিরাপদ কর্মপরিবেশ, আইনি সহায়তা ও প্রয়োজনীয় সুরক্ষা পান এটি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আর বিদেশের মাটিতে কোনো প্রবাসীর মৃত্যু হলে তার মরদেহ দেশে নিয়ে আসা, পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কারণ রেমিট্যান্সের সময় যদি একজন প্রবাসী দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হন, তবে মৃত্যুর পর তিনি শুধুই একজন সংখ্যা হতে পারেন না, বলেই মত বিশ্লেষকদের।
রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের মর্যাদা
১৭ জন প্রবাসীর মৃত্যু রাষ্ট্রের সামনে সেই প্রশ্ন নতুন করে দাঁড় করিয়েছে। যারা ঘাম ঝরিয়ে দেশের অর্থনীতি সচল রাখে, রাষ্ট্রের কাছে তাদের জীবনও যেন সমান মূল্যবান হয়, এটিই প্রত্যাশা সবার। রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা না করলেও, সৌদি আরবে নিহত প্রবাসীদের পরিবারের পাশে দাঁড়াবে রাষ্ট্র, এমন চাওয়া এখন ভুক্তভোগীদের।
আরও পড়ুন:








