কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বালুখালী বাজারের রোহিঙ্গাবাজারে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত বিড়ি ও সিগারেট জব্দ করেছে উখিয়া থানা পুলিশ। এ সময় নকল বিড়ি ও সিগারেটসহ দুইজনকে আটক করা হয়েছে।
রবিবার বিকেলে উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালী সাকিনের অন্তর্গত রোহিঙ্গাবাজারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কিছু অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে সরকারের মোটা অংকের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে নকল আকিজ বিড়ি উৎপাদন করে কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বাজারজাত ও মজুদ করে আসছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোহিঙ্গাবাজারে অভিযান চালিয়ে ৫০ হাজার শলাকা নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত আকিজ বিড়ি, ৪ হাজার ৫০০ শলাকা চায়না ব্ল্যাক সিগারেট, ৩ হাজার শলাকা হিলটন সিগারেট এবং ৭২ হাজার শলাকা নকল মাস্টার বিড়ি উদ্ধার করা হয়।
অভিযানকালে মো. সাগর ও মো. ইউনুছ নামের দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মো. সাগর কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর থানার মো. সাবাজ মন্ডলের ছেলে এবং মো. ইউনুছ কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থানার আবুল হোসাইনের ছেলে।
আকিজ বিড়ি ফ্যাক্টরির কর্মকর্তারা জানান, মো. সাগর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত কর্মী। তিনি কুষ্টিয়া জেলায় নকল বিড়ি উৎপাদন করে কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করেন। এর আগে নকল সরকারি স্ট্যাম্প ও ব্যান্ডরোল মোড়ানো এবং সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া নকল বিড়ি বিক্রির মামলায় তিনি সাজাপ্রাপ্ত আসামি। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আঞ্চলিক টিম গঠন করে তাদের মাধ্যমে নকল বিড়ি ও সিগারেট সরবরাহ করে থাকেন তিনি।
এ ঘটনায় আকিজ বিড়ি ফ্যাক্টরি লিমিটেডের এরিয়া ম্যানেজার (মার্কেটিং) মাশোক ইলাহী বাদী হয়ে উখিয়া থানায় মো. সাগর ও মো. ইউনুছের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩/৪ জনকে বিবাদী করে একটি এজাহার দাখিল করেছেন।
উখিয়া থানার এসআই (নিঃ) উনুমং মারমা জানান, অভিযানে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া অবৈধ বিড়ি ও সিগারেট জব্দ করা হয়েছে। অভিযুক্ত দুইজনকে আটক করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তিনি বলেন, নকল ও অবৈধ পণ্যের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি চালু রয়েছে। ফলে দেশের রাজস্ব ফাঁকি দেবে এমন কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। নকলের বিরুদ্ধে পুলিশের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
আরও পড়ুন:








