রবিবার

৯ আগস্ট, ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ, ১৪৩৩

কৃষকের সার যাচ্ছে অন্য উপজেলায়, চড়া দামে বিক্রি

শহিদুল ইসলাম, রাজশাহী ব্যুরো প্রধান

প্রকাশিত: ৯ আগস্ট, ২০২৬ ১৩:৫৫

শেয়ার

কৃষকের সার যাচ্ছে অন্য উপজেলায়, চড়া দামে বিক্রি
ছবি: সংগৃহীত

নওগাঁর সাপাহার উপজেলা থেকে প্রায় ১০০ বস্তা ডিএপি সার পাশের পোরশা উপজেলা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত এই সার এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলা ও অন্য জেলায় নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় কৃষি অফিসের সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন।

অভিযোগ রয়েছে, সাপাহার উপজেলার জিরো পয়েন্ট থেকে ভ্যানে কখনো ট্রলি গাড়িতে করে বিএডিসির ডিএপি সার পোরশা উপজেলায় আবার কোনো কোনো সময় চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় নিয়মিত যায় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে এ নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়।

কৃষকদের অভিযোগ, যেখানে নিজ উপজেলাতেই চাহিদা অনুযায়ী সার পাওয়া যাচ্ছে না, সেখানে কীভাবে বিপুল পরিমাণ ডিএপি সার অন্য উপজেলায় যাচ্ছে তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

কৃষকদের এমন অভিযোগে সরেজমিনে বিকেলের দিকে, সত্যতা পাওয়া গেছে, সাপাহার জিরো পয়েন্ট থেকে একটি ট্রলিতে করে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন ( বিএডিসি) এর ১০০ বস্তা ডিএপি সার যাচ্ছে বিভিন্ন উপজেলায়। রঙিন পলিথিনে ঢেকে সার গুলো অন্য উপজেলায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।

ভ্যানচালক সিদ্দিক কে প্রশ্ন করলে তিনি জানান, সাপাহার জিরো পয়েন্ট থেকে সার নিয়েছি, এই সার গুলো পোরশা উপজেলার নাছির নামের একজন এর কাছে যাবে। আমি বিস্তারিত কিছু জানিনা। আমাকে নিয়ে যেতে বলছে তাই নিয়ে যাচ্ছি শুধু।

২০ বস্তা ডিএপি সার নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর যাচ্ছিলেন এক ভ্যান চালক। কথা হলে ইসমাইল নামের এক ভ্যান চালক বলেন, সাপাহার- পোরশা উপজেলা থেকে সার গুলো সংগ্রহ করি। গোমস্তপুরের নিয়ে যাচ্ছি সেখানে আমের বড় বাগান আছে তাই বিভিন্ন যায়গা থেকে সংগ্রহ করি। আমার কাছে কোনো রশিদ নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক কৃষক বলেন, বিশেষ করে ডিএপি সার যখন আমরা কিনতে যাচ্ছি তখন বেশিরভাগ সময়-ই ডিলার বলে সার নেই। ১০৫০ টাকার সার বিভিন্নভাবে হাত বদলে বেড়ে যায় ১৩০০ থেকে ১৫০০ টাকা।বাড়তি দাম দিলে দেয়। কৃষি বিভাগের অনুমতি বা সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা ছাড়া এত বিপুল পরিমাণ সার এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় যাওয়ার সুযোগ থাকার কথা নয়। ফলে সার পরিবহনের সঙ্গে কারা জড়িত এবং কীভাবে এসব সার অন্য উপজেলায় যাচ্ছে, তা তদন্তের দাবি জানান তিনি।

আরেক কৃষক বলেন, “আমরা সময়মতো প্রয়োজনীয় ডিএপি সারের জন্য দোকানে ঘুরতে হয়। অথচ আমাদের এলাকার সার যদি অন্য উপজেলায় চলে যায়, তাহলে আমরা সার পাব কীভাবে? বিষয়টি তদন্ত করে দেখা দরকার।”

তিনি আরো বলেন, কৃষকের জন্য বরাদ্দ সার কৃষকের কাছেই পৌঁছানোর কথা। আমরা সার সংকটে থাকি, অথচ একসঙ্গে ১০০ বস্তা সার অন্য উপজেলায় চলে যাচ্ছেএটা খুবই দুঃখজনক। এর সঙ্গে কারা জড়িত, সেটা বের করা দরকার।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাপাহার উপজেলা কৃষি অফিসার মোছাঃ শাপলা বলেন খাতুন বলেন, আমি ডিলারের খোঁজ নিচ্ছি। আমি একটু অসুস্থ। মনিরকে ( অতিরিক্ত কৃষি অফিসার) খোঁজ নিতে বলতেছি।

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, কৃষকের জন্য বরাদ্দকৃত ডিএপি সার কীভাবে এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, এর পেছনে কারা রয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তা বা ডিলারের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হোক।



banner close
banner close