তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব বাংলাদেশে দিন দিন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিশেষ করে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আমরা খুব কাছ থেকে উপলব্ধি করতে পারছি।
তিনি বলেন, “বৃষ্টির পরিমাণ, রোদের পরিমাণ, তাপের পরিমাণ এবং পানির উচ্চতা—সবকিছুতেই দিন দিন পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর প্রভাব আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, কৃষি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর পড়ছে।”
রবিবার সকাল ১০টায় বরিশাল নগরীর বেলস পার্ক এলাকায় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশে যেসব অঞ্চল ভবিষ্যতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকবে, তার মধ্যে উপকূলীয় অঞ্চল অন্যতম। সাগরপাড়ের বাসিন্দা হিসেবে এসব এলাকার মানুষের জীবন ও জীবিকা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি বলেন, “আমাদের মতো উপকূলীয় অঞ্চলের জনগোষ্ঠীকে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণ ও সবুজায়নের কোনো বিকল্প নেই।”
মন্ত্রী আরও বলেন, শুধু সরকারি উদ্যোগের ওপর নির্ভর করলে পরিবেশ রক্ষার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। বন বিভাগসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার পাশাপাশি ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সর্বস্তরের মানুষকে পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি বন বিভাগের বিভিন্ন উদ্যোগকে সহযোগিতা করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বৃক্ষরোপণ ও সবুজায়নের গুরুত্ব সাধারণ মানুষের মধ্যে আরও ব্যাপকভাবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, লবণাক্ততা, অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাতসহ নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণ ও বনভূমি সংরক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অনুষ্ঠানে বরিশাল বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, বন বিভাগের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সামাজিক ও পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
পরে মন্ত্রী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন এবং বৃক্ষমেলা পরিদর্শন করেন। এ সময় বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা প্রদর্শন করা হয়। মেলায় পরিবেশ ও বৃক্ষ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরা হয়।
আরও পড়ুন:








