শনিবার

৮ আগস্ট, ২০২৬ ২৪ শ্রাবণ, ১৪৩৩

হাদী হত্যার রহস্য উন্মোচন করতে না পারলে ডিপ স্টেটের ঘোরপাকে থাকতে হবে: আব্দুল্লাহ আল জাবের

আব্দুল্লাহ আল মামুন, কুমিল্লা

প্রকাশিত: ৮ আগস্ট, ২০২৬ ২১:২৩

শেয়ার

হাদী হত্যার রহস্য উন্মোচন করতে না পারলে ডিপ স্টেটের ঘোরপাকে থাকতে হবে: আব্দুল্লাহ আল জাবের
ছবি: বাংলা এডিশন

শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করা না গেলে দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ‘ডিপ স্টেট’সহ নানা তত্ত্বের ঘোরপাকে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন ইনকিলাব মঞ্চের অন্যতম সংগঠক আব্দুল্লাহ আল জাবের।

তিনি বলেন, ‘শহীদ ওসমান হাদীর হত্যার বিচার যদি আমরা করি, তাহলে হাদী ভাই ব্যক্তিগতভাবে কী পাবেন? তিনি তো মারা গেছেন, শহীদ হয়েছেন। তিনি কেন বলে গেছেন আমাকে যদি মেরে ফেলা হয়, বিচারটা করবেন? এই বিচার তিনি নিজের জন্য চাননি; তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য এই বিচার চেয়েছেন।’

শনিবার (৮ আগস্ট) কুমিল্লা নগরীর রাজগন্জ এলাকায় কুবি শাখা ইনকিলাব মঞ্চের আয়োজন জুলাইয়ের বিজয়গাথা ও বাংলাদেশপন্থী সংস্কৃতির নবসূচনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন আব্দুল্লাহ আল জাবের।

তিনি বলেন, ‘শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর হত্যার সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সম্পর্ক আছে। এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য যদি আমরা উন্মোচন করতে না পারি, তাহলে দীর্ঘকাল আমাদের এই দেশে বিভিন্ন সময়ে ডিপ স্টেট বা আরও অনেক কিছু দিয়ে সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা করা হবে। এই মুখোশের মধ্যে সবসময় আমাদের ঘোরপাক খেতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘হাদী ভাইয়ের বিচার বাংলাদেশে হতেই হবে। শুধু ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে বিচার হয় না, আন্দোলনের জন্য গোছানো পরিবেশ দরকার।’

হাদী হত্যার বিচার নিয়ে সরকারের প্রতি কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সরকারকে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত দিতে হবে শহীদ ওসমান হাদীর বিচার করবে কি করবে না। এর মাঝামাঝি কোনো ধরনের ‘প্যাঁচানো-ট্যাঁচানো’ বক্তব্য তারা শুনতে চান না।

তিনি জানান, শহীদ ওসমান হাদীর হত্যার বিচারের দাবিতে ১৩ ডিসেম্বর থেকে শাহবাগে জমায়েত শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে সরকারকে এ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘বর্তমানে সরকারের যে অবস্থা, তাতে আমরা খুব একটা আশা দেখছি না। সেই জায়গা থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ইনশাআল্লাহ ৬৪ জেলা সফর করব এবং ঢাকায় স্মরণকালের সবচেয়ে বড় একটি জমায়েত হবে শহীদ ওসমানের বিচার দাবিতে।’

বক্তব্যের শেষদিকে তিনি বাংলাদেশের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ইতিহাস নির্মাণে তরুণদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদ মোকাবিলা এবং বাংলাদেশের নিজস্ব সংস্কৃতি বিনির্মাণের জন্য বিচ্ছিন্নভাবে নয়, সবাইকে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল জাবের, কাশীদার লিড ভোকালিস্ট আহমেদ আতাউল্লাহ সালমান, ইনকিলাব মঞ্চের সার্চ কমিটির সদস্য ও অভিনেতা আসাদুজ্জামান আসাদ,সার্চ কমিটির কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ও অ্যানালিস্ট ডা. মো. আরিফ মোর্শেদ খান এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুতাসিম বিল্লাহ।

এছাড়াও বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক রাশেদুল ইসলাম সহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেয়া ছাত্র নেতারা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।



banner close
banner close