দীর্ঘ দুই মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর গাইবান্ধার সাঘাটায় ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত ছাত্রশিবির নেতা সালাউদ্দিন মারা গেছেন।
শনিবার সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ঢাকায় চিকিৎসাধীন ছিলেন।
এর আগে সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া চারমাথায় ছুরিকাঘাতে বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ নিহত হন। এ সময় শিবির কর্মী সালাউদ্দিন গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে সাঘাটা উপজেলা চত্বরে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লার সঙ্গে বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মুকুলের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে স্থানীয় নেতাদের মধ্যস্থতায় বিষয়টি মীমাংসা হলে সবাই উপজেলা চত্বর থেকে চলে যান।
এর প্রায় ১০ মিনিট পর বোনারপাড়া-সাঘাটা সড়কের উপজেলা সংলগ্ন বোনারপাড়া চৌমাথায় ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ ও কর্মী সালাউদ্দিন অবস্থান করছিলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ সময় বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান মুকুল মিয়া ও তার ছোট ভাই পলাশ, বোনারপাড়া ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য রবিউল ইসলাম, যুবদল নেতা আশরাফ, মোনারুল ও জব্বারসহ ১০ থেকে ১৩ জন ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান।
হামলায় সালাউদ্দিনের গলায় আঘাত লাগে। সাইফুল্লাহ এগিয়ে এলে তাকেও ধাওয়া করে বোনারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনের সড়কে ফেলে গলায় ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানান।
ঘটনার পর স্থানীয়রা আহত দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। গাইবান্ধা আধুনিক হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক সাইফুল্লাহকে মৃত ঘোষণা করেন।
গুরুতর আহত সালাউদ্দিনকে প্রথমে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে প্রায় দুই মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
আরও পড়ুন:








