শুক্রবার

৭ আগস্ট, ২০২৬ ২৩ শ্রাবণ, ১৪৩৩

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে প্যারাসেইলিং দুর্ঘটনায় হত্যা মামলা: প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

নুর মোহাম্মদ, কক্সবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৭ আগস্ট, ২০২৬ ১৩:৩৯

শেয়ার

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে প্যারাসেইলিং দুর্ঘটনায় হত্যা মামলা: প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজার দরিয়ানগর সমুদ্র সৈকতে অনিরাপদ ও বিপজ্জনকভাবে প্যারাসেইলিং পরিচালনা করে পর্যটক অক্ষর সৌভিক রায়- এর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় দায়েরকৃত হত্যা মামলার প্রধান আসামি মোঃ ফরিদ- কে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৯:৩০ মিনিটে র‍্যাব-১৫ (কক্সবাজার) ও র‍্যাব-৪ (ঢাকা)-এর একটি যৌথ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা মহানগরীর মিরপুর মডেল থানাধীন মধ্য পীরেরবাগ এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত মোঃ ফরিদ কক্সবাজার পৌরসভার ১১ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ বাহারছড়া এলাকার আব্দুল হাই ও রাজিয়া খাতুনের ছেলে।

গত ০১ আগস্ট ২০২৬ দুপুর আনুমানিক ১:৪০ মিনিটে কক্সবাজারের দরিয়ানগর এলাকায় অভিযুক্ত ফরিদের মালিকানাধীন পয়েন্টে প্যারাসেইলিং করতে যান পর্যটক অক্ষর সৌভিক রায়। চরম নিরাপত্তাজনিত অবহেলা ও ত্রুটিপূর্ণ সরঞ্জামের কারণে উড্ডয়নরত অবস্থায় হঠাৎ প্যারাসেইলিংয়ের রশি ছিঁড়ে তিনি অনিয়ন্ত্রিতভাবে সমুদ্রে পড়ে যান। পয়েন্টে তাৎক্ষণিক কোনো জরুরি উদ্ধার ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘক্ষণ পর তাকে পানি থেকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর নিহতের বোন বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ঘটনার পর থেকে গ্রেপ্তার এড়াতে অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যায়। পরবর্তীতে র‍্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। একপর্যায়ে আসামি ফরিদের ঢাকায় আত্মগোপনের অবস্থান শনাক্ত করে র‍্যাব-১৫ ও র‍্যাব-৪ যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফরিদ কক্সবাজার থেকে পালিয়ে ঢাকায় গা-ঢাকা দেয়ার কথা স্বীকার করেছে।

আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে উদ্ধারকৃত আলামতসহ পরবর্তী ব্যবস্থার জন্য কক্সবাজার সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান র‍্যাব। সমুদ্র সৈকতে অনিয়ন্ত্রিত ও নিরাপত্তাহীন প্যারাসেইলিং বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের এমন কঠোর পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় ও পর্যটকরা।



banner close
banner close