গাজীপুর জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও ভাওয়াল গড় বাঁচাও আন্দোলনের মহাসচিব এ কে এম রিপন আনসারী বলেছেন, বর্তমান সমাজে নৈতিক শিক্ষার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পরিবার থেকেই শিশুদের নৈতিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। এমন সন্তান গড়ে তোলা যাবে না, যারা ভবিষ্যতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াবে এবং বৃদ্ধাশ্রমের সংখ্যা ও সেখানকার মানুষের সারি বাড়িয়ে দেবে।
বৃহস্পতিবার গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এম. এ. বারী শিক্ষাবৃত্তির উদ্যোগে আয়োজিত ‘কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান এবং শিশুদের মাঝে চারা গাছ বিতরণ-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রিপন আনসারী বলেন, একসময় শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রদর্শন করত। কিন্তু বর্তমানে সেই মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটছে। কোথাও কোথাও শিক্ষকদের অসম্মান, এমনকি তাদের সামনে অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনাও দেখা যাচ্ছে। একইভাবে বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্ববোধ ও সম্মানবোধও কমে যাচ্ছে। অনেক সন্তান বাবা-মায়ের অর্থে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর তাদের খোঁজও নেয় না। ফলে অসহায় অনেক প্রবীণকে বাধ্য হয়ে বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রয় নিতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পরিবারভিত্তিক নৈতিক শিক্ষা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়েও তিনি বলেন, বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। কাপাসিয়ার শীতলক্ষ্যা নদীর তীর পরিষ্কার রাখা, রাস্তার পাশে আবর্জনা অপসারণ এবং বেশি বেশি গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রকৃতি কখনো মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে না। প্রকৃতি সবুজ ও সমৃদ্ধ থাকলে দেশও নিরাপদ ও বাসযোগ্য থাকবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজুল হক। সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন ও গাজীপুর পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (গাপা)-এর সভাপতি আলহাজ মো. মোছাদ্দিকুর রহমান (হাজী মুছা)। উদ্বোধন করেন কাপাসিয়া রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. সোহরাওয়ার্দী।
সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গাজীপুর জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া। আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন কাপাসিয়া উপজেলা কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. সাহাব উদ্দিন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন গাজীপুর কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এবং সুজন, গাজীপুর মহানগরের সাধারণ সম্পাদক মো. ইসমাইল হোসেন (মাস্টার)।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, কাপাসিয়া উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ২৮৫ জন বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থী এবং গণিত অলিম্পিয়াডের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপদের ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। পাশাপাশি শিশুদের মাঝে পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা ছড়িয়ে দিতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, মূল অনুষ্ঠান শুরুর আগে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদেরও ক্রেস্ট, সনদপত্র ও গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন:








