বৃহস্পতিবার

৬ আগস্ট, ২০২৬ ২২ শ্রাবণ, ১৪৩৩

মেহেরপুরের গাংনীতে গেমের বিরোধে শিশু হত্যা মামলায় দুই কিশোরের কারাদণ্ড

সেলিম রেজা, মেহেরপুর

প্রকাশিত: ৬ আগস্ট, ২০২৬ ১৭:৩৪

শেয়ার

মেহেরপুরের গাংনীতে গেমের বিরোধে শিশু হত্যা মামলায় দুই কিশোরের কারাদণ্ড
ছবি: বাংলা এডিশন

মেহেরপুরের গাংনীতে মোবাইল গেম ফ্রি ফায়ার/পাবজি খেলাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রেজোয়ান আল আবির (১২) হত্যা মামলায় দুই কিশোরকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

একই সঙ্গে দেশের স্মার্টফোন থেকে ফ্রি ফায়ার ও পাবজি গেম দ্রুত অপসারণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-কে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আলী মাসুদ শেখ এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে মিনাপাড়া গ্রামের মিরাজুল ইসলামের ছেলে মোস্তফা আল মুজাহিদ (১৫)-কে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং মিনাপাড়া গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য নুহু নবীর ছেলে মো. জুনাইদ ইসলাম হামিম (১৪)-কে ৭ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

নিহত আবিরের মা রোজিনা খাতুন জানান, তাঁর স্বামী মো. আসাদুজ্জামান মালয়েশিয়া প্রবাসী। তাঁদের গ্রামের বাড়ি চুয়াডাঙ্গার শরিষাডালা এলাকায় হলেও তিনি সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়ি গাংনী উপজেলার মিনাপাড়া গ্রামে বসবাস করতেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২১ সালের ২৬ জুন মোস্তফা আল মুজাহিদ ও জুনাইদ ইসলাম হামিম বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় মিনাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রেজোয়ান আল আবিরকে। পরে ফ্রি ফায়ার/পাবজি গেম খেলা নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারা মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত আবিরের বাবার কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং টাকা না দিলে আবিরকে হত্যার হুমকি দেয়। পরে চাঁদা না পেয়ে আবিরকে একটি ধানক্ষেতে নিয়ে হত্যা করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

এ ঘটনায় রোজিনা খাতুন বাদী হয়ে ২০২১ সালের ২৭ জুন গাংনী থানায় হত্যা মামলা (মামলা নং-২৩) দায়ের করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন বলেন, দণ্ডপ্রাপ্তরা ঘটনার সময় শিশু হওয়ায় শিশু আইনের আওতায় সর্বোচ্চ সাজা প্রদান করেছেন আদালত। পাশাপাশি আদালত ফ্রি ফায়ার ও পাবজি গেম দ্রুত দেশের স্মার্টফোন থেকে অপসারণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিটিআরসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।

এছাড়া রায়ে দণ্ডপ্রাপ্তদের পরিবারের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে অর্থদণ্ড আদায় সাপেক্ষে সেই অর্থ নিহতের পরিবারকে প্রদানের জন্য জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার আব্দুল মতিন।



banner close
banner close